খুলনা মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে বিভেদ বেশ পুরোনো। সম্প্রতি স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি কর্মসূচি ও ফেসবুকে এক নেতার লেখাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল বাগ্‌যুদ্ধ। নগর, থানা ও ওয়ার্ড বিএনপির শতাধিক নেতা বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে লিখেছেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু নিজেও। দলীয় রাজনীতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন হৈচৈ আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে নগরবাসীর মাঝে।
দলীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৫ সাল থেকে নগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলী আজগর লবীর অনুসারীদের সঙ্গে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর দ্বন্দ্ব চলে আসছে। কিন্তু এবার বিরোধ তৈরি হয়েছে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর হাত ধরে রাজনীতিতে উঠে আসা ব্যক্তিদের সঙ্গেই।
সূত্রটি জানায়, কয়েক মাস ধরে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতা দলের মধ্যে পৃথক আরেকটি বলয় তৈরি করেছেন। এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন নগর ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি শফিকুল আলম তুহিন। তার সঙ্গে রয়েছেন নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক আজিজুল হাসান দুলু, নগর যুবদলের বর্তমান সভাপতি মাহাবুব হাসান পিয়ারু, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল ও মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক।
দলের বিভেদ নিয়ে গত ২৩ আগস্ট শফিকুল আলম তুহিন ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। এর পরই মূলত ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। গত তিন দিন বিএনপি ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতা বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, যা এখনও চলছে।
নগর যুবদলের সাবেক সভাপতি শফিকুল আলম তুহিন সমকালকে বলেন, সভাপতি কিছু অনুগত লোক দিয়ে দল পরিচালনা করতে চান। ৩৮ বছরের রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে প্রতিনিয়ত আমরা বঞ্চিত ও অবহেলিত হচ্ছি।
স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক আজিজুল হাসান দুলু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন না হওয়া, ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করা, বিগত আন্দোলন ও নির্বাচনে যারা মাঠে ছিলেন না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো প্রশ্রয় দেওয়ায় ভেতরে ভেতরে ক্ষুব্ধ ছিলেন অনেকেই। এখন সবাই প্রতিবাদ করছেন।
তবে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর অনুসারীরা ফেসবুকে এদের কঠোর সমালোচনা করছেন। ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুর রহমান লিখেছেন, 'মামলা-গ্রেপ্তার হয়ে সবাই যখন কারাগারে ছিলাম, এসব নেতা তখন কোথায় ছিলেন? গত ১১ বছরে ৩০০ মামলা এক হাতে মোকাবিলা করছেন মঞ্জু ভাই। যারা এখন সমালোচনা করছেন, তাদেরও জামিন করিয়েছেন তিনি।'
নগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, কয়েক মাস ধরে তারা ফেসবুকে অসম্মানজনক অনেক লেখা লিখেছে। যাতে বিএনপি কর্মীদের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। দলের স্বার্থে বিষয়টি নিয়ে চুপ ছিলাম। পরে ছোট করে জবাব দিয়েছি। তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কারও ওপর কোনো অন্যায়-অবিচার করিনি। তাদের অভিযোগগুলো সঠিক নয়।