মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিম বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার সম্পন্ন হলেও যারা নেপথ্যে ছিলো আমরা তাদের বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধুর কয়েকজন হত্যাকারীকে দেশের বাইরে থেকেও নিয়ে আসা হয়েছে। কিছুদিন পূর্বে ক্যাপ্টেন মাজেদও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ধরা পড়েছে এবং তার ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে তৎপর রয়েছে। আমাদের বিশ্বাস ইনশাআল্লাহ অদূর ভবিষ্যতে আমরা বঙ্গবন্ধুর সকল খুনিকে বিশ্বের যেখানেই থাকুক ধরে নিয়ে এসে ফাঁসির রায় কার্যকর করতে সক্ষম হবো।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাভারে শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটএ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী ও ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সারা দেশে বন্যায় যেসব মৎস্য খামারে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাদের ইতোমধ্যে সরকার সহজ শর্তে ঋণ দিচ্ছে এবং প্রান্তিক পর্যায়ে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদেরও সাহায্য করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, সম্প্রতি মৎস অধিদপ্তরের কিছু অনিয়মের একটি খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। সেই খবরটি ছিলো সম্পুর্ন ভিত্তিহিন, যার প্রতিবাদ দেওয়া হয়েছে। তারপরও যদি কোথাও কোন অনিয়ম থেকে থাকে আমরা খতিয়ে দেখবো এবং নিশ্চয় অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, এবারের বন্যায় সর্বমোট ৪০ জেলা প্লাবিত হয়েছিলো। বর্তমানে সব জায়গার পানি নেমে গেছে এবং নদীর পানিও বিপদ সীমার নিচে রয়েছে। ইতোমধ্যে ডি ফরম পূরণের মাধ্যমে ক্ষয়-ক্ষতির তালিকাও আমরা হাতে পেয়েছি। সেই তালিকা নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় তাদের ক্ষয়-ক্ষতির ভিত্তিতে কে কিভাবে কাজ করবে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পূর্বের ন্যায় খাদ্য সহযোগীতা অব্যাহত থাকবে।

এর আগে শোক দিবসের আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, করোনা শুরু হওয়ার পর আমরা এক হাজার ক্রীড়াবিদকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছি। পরবর্তীতে প্রায় সোয়া চার হাজার ক্রীড়াবিদকে ৭ হাজার টাকা করে চার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এরপরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। সেখান থেকেও ক্রীয়াবিদদের অনুদান দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশে ইতোমধ্যে খেলাধুলা শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমারদের দেশেও কিভাবে খেলাধুলা চালু করতে পারি সে বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একটি পত্র লিখেছিলাম। তারা আমাদেরকে ১১টি নির্দেশনা দিয়ে জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে খেলাধুলা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে। এখন চাইলেই বিভিন্ন ফেডারেশনগুলো স্বাস্থবিধি মেনে তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং সীমিত পরিসরে খেলাধুলার আয়োজন করতে পারবে।

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব আখতার হোসেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক আখতারুজ্জামান খান কবির প্রমুখ।