সমন্বয়হীনতার কারণেই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না: চসিক প্রশাসক

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২০   

চট্টগ্রাম ব্যুরো

খোরশেদ আলম সুজন       -ফাইল ছবি

খোরশেদ আলম সুজন -ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম নগরের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। শুধুমাত্র সমন্বয়হীনতার কারণেই এখন পর্যন্ত এ সমস্যার স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন। মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষের সঙ্গে সাক্ষাতকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, ‘জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী, ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনকে একাধিক মেগা প্রকল্প দিয়েছেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চসিকের সাথে সমন্বয় সাধানের বিষয়টিও তিনি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। জলাবদ্ধতাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের যে জনবল ও অভিজ্ঞতা রয়েছে তা অন্য কোনো সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নেই। তাই এই সমস্ত প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদানের জন্য চসিক মুখিয়ে আছে।’

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের সামনে পাঁচতলা বিশিষ্ট পার্কিং জোন নির্মাণে চউকের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৩টি সংস্থা প্রধানদের নিয়ে একটি সমন্বয় কমিটি হবে এবং একটি করে মাসিক সভা হবে। এতে পারস্পরিক দূরত্ব কমে আসবে।’

বৈঠকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়াম্যান মোহাম্মদ জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই চট্টগ্রামের উন্নয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সেবা সংস্থার সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা শুরু করেছি।  ২০২০ সালের শুরুতে আমার এই সমন্বয় প্রচেষ্টা সফল হয় এবং এর সুফলও পাচ্ছি। আমরা যদি পরস্পর আন্তরিক হই তাহলে সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে কোনো সংকট থাকবে না। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে নাগরিক দুর্ভোগ যেন প্রলম্বিত না হয়।

তিনি বলেন, ‘পৃথক বাস ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। এতে পরিবহন সেক্টরে ব্যবস্থাপনাগত শৃঙ্খলা আসবে। তবে সবচেয়ে বেশি এখন যেটি দরকার তা হলো টার্মিনালের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা। এই পুরো উদ্যোগটি নির্ভর করে যথাযথ সমন্বয় সাধানের মাধ্যমে।’ তিনি চট্টগ্রাম নগরীতে যানজট সমস্যার সমাধানে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও যুযোগযোগী করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।  

বৈঠকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহম্মদ সাইফুল আলম চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস্, চসিক প্রধান প্রকৌশলী লেফটেন্যান্ট কর্নেল সোহেল আহমদ, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, চউকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এ এম হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ
মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন। এসময় তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরের সিহংভাগ ভূমি বন্দর ও রেলওয়ের মালিকানাধীন। এই ভূমির বিরাট অংশ অবৈধ দখলদারদের হাতে। কর্ণফুলীর তীরবর্তী ভরাট হয়ে যাওয়া অংশ যেগুলোর মালিকানা বন্দর ও জেলা প্রশাসনের সেগুলোরও অধিকাংশ জায়গা বেদখল হয়ে আছে। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রাণ শক্তি কর্ণফুলী নদী বিপন্ন।’

তিনি বলেন, ‘রেল ও বন্দরের যেসমস্ত জায়গা অব্যবহৃত যা অবৈধ দখলদারদের হাতে সেগুলো পুনরুদ্ধার করে জেলা প্রশাসন পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র এবং আয়বর্ধক প্রকল্প গ্রহণ করতে পারে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন উদ্যোগী হলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাবে।’

এ সময় দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ কামাল হোসেন, আবু সিদ্দিক ও প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম।