নিজের ছোড়া গুলিতে শিশু লামিয়ার গুলিবিদ্ধ হওয়া ও মেয়ের প্রেমের ঘটনা ধামাচাপা দিতেই খুলনায় চার কলেজছাত্রের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেছেন ঠিকাদার ইউসুফ আলী। এমন অভিযোগ করেছেন এ মামলায় গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা। 

তাদের দাবি, ঠিকাদারের মেয়ে রুকাইয়ার সঙ্গে সুন্দরবন কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. আবু সাইদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মঙ্গলবার আদালতে সাইদ-রুকাইয়ার প্রেমের সম্পর্কের কয়েকটি ছবিও উপস্থাপন করা হয়েছে। এদিকে, গ্রেপ্তার ওই শিক্ষার্থীদের রিমান্ডের আবেদন নামঞ্জুর করে দু'দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

আবু সাইদের বড় ভাই জাহিদ হাসান জানান, তার ভাইয়ের সঙ্গে নগরীর মিস্ত্রিপাড়া এলাকার ঠিকাদার ইউসুফ আলীর মেয়ে রুকাইয়ার তিন বছরের প্রেমের সম্পর্ক। তাদের বাড়ি যশোরের কেশবপুরে। সাইদ খুলনা নগরীতে থেকে লেখাপড়া করত। করোনা পরিস্থিতির কারণে বেশ কিছুদিন আগে সে বাড়িতে চলে যায়। এর মধ্যে রুকাইয়ার বাবা প্রেমের বিষয়টি জানতে পেরে তাকে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। বাবার চাপে রুকাইয়া মোবাইল ফোন বন্ধ রাখে। এ অবস্থায় গত শুক্রবার সকালে সাইদ তার তিন সহপাঠীকে নিয়ে খোঁজ নিতে ঠিকাদার ইউসুফ আলীর বাড়িতে যায়।

তিনি আরও জানান, ঘরে বসে কথা বলার কিছু সময় পর ইউসুফ আলী উত্তেজিত হয়ে উঠেন এবং তার লাইসেন্স করা পিস্তল নিয়ে চারজনকে ধাওয়া করেন। এ সময় দুই রাউন্ড গুলি ছুড়লে লক্ষ্যভ্রষ্ট একটি গুলি প্রতিবেশীর মেয়ে লামিয়া আক্তারের পায়ে বিদ্ধ হয়। জাহিদ হাসান অভিযোগ করেন, ঠিকাদারি নিয়ে দ্বন্দ্ব বা চাঁদাবাজি নয়, প্রেমের ঘটনা ধামাচাপা এবং গুলির ঘটনার দায় এড়াতেই ঠিকাদার মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলাটি করেন।

ঠিকাদার ইউসুফ আলীর বাড়ির ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, চার কলেজছাত্র জুতা খুলে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে। ৫ মিনিট পর হন্তদন্ত হয়ে তারা ঘর থেকে বেরিয়ে জুতা পরে দৌড় দেয়। পেছন পেছন পিস্তল হাতে ঠিকাদার ঘর থেকে সিঁড়িতে তাদের ধাওয়া করেন। ঠিকাদারের শ্যালক তাকে আটকানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী শেখ মুনজিল আলী জানান, আসামি সাইদের সঙ্গে ঠিকাদার ইউসুফ আলীর মেয়ে রুকাইয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল, এ-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি ছবি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পলায়নরত যুবকদের পেছন থেকে কেন গুলি করা হলো সে বিষয়েও রিমান্ড শুনানির সময় আদালত প্রশ্ন উত্থাপন করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাইদুর রহমান জানান, আজ বুধ ও বৃহস্পতিবার তাদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

তবে মেয়ের প্রেমের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে ঠিকাদার ইউসুফ আলী দাবি করেন, একটি ঠিকাদারি কাজ বিক্রি না করায় ওই চারজন প্রথমে পাঁচ লাখ ও পরে আড়াই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তখন তিনি তাদের ধাওয়া করেন এবং লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন। 

এ ব্যাপারে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (সাউথ) এসএম শাকিলুজ্জামান জানান, সব বিষয়েই তারা তদন্ত করে দেখছেন। তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।