টাঙ্গাইলে এক ব্যক্তির পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে আটকের চেষ্টার অভিযোগে এক পুলিশ কনস্টেবল এবং পুলিশের এক সোর্সকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার বিকেলে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুপম কুমার দাস এ রায় দেন। রায় ঘোষণার পর আদালতের বিচারক তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মির্জাপুরের বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল রাসেলুজ্জামান রাসেলকে এক বছর ছয় মাসের এবং তাদের সোর্স হাসান মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিত রাসেলুজ্জামান ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার মোজাটি চরপাড়া গ্রামের আক্তারুজ্জামানের ছেলে। হাসান মিয়া মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল নয়াপাড়া গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় একজন পুলিশ এএসআই, তিন কনস্টেবল ও অপর এক সোর্সকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। খালাস প্রাপ্তরা হলেন- বাঁশতৈল ফাঁড়ির সাবেক উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) রিয়াজুল ইসলাম, কনস্টেবল গোপাল চন্দ্র সাহা, তোজাম্মেল হক ও আব্দুল হালিম এবং সোর্স আল আমিন।

টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক তানভীর আহম্মেদ বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দুইজনকে কারাদণ্ড ও অপর পাঁচজনের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের  খালাসের রায় দেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, দণ্ডিত কনস্টেবল রাসেলুজ্জামান ও সোর্স হাসান মিয়াসহ মির্জাপুর থানার বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির আরো চার পুলিশ সদস্য এবং আরো এক সোর্স গত বছরের ২৮ নভেম্বর পাশ্ববর্তী সখীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় যান। তারা ওই এলাকার বজলুর রহমান নামের এক দিন মজুরের পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে জোর করে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় তোলেন। বজলুরের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে অটো রিকশাটি আটক করেন।

বজলুরের কাছ থেকে ঘটনা বিবরণ শুনে উপস্থিত লোকজন পুলিশ ও সোর্সদের তল্লাশি করে কিছু ইয়াবা পান। এতে সাধারণ মানুষ বিক্ষুদ্ধ হয়ে পুলিশ ও সোর্সদের পিটুনি দিয়ে একটি দোকানে আটকে রাখেন। পরে খবর পেয়ে সখীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। এর আগেই তিনজন কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে চারজনকে পুলিশ সখীপুর থানায় নিয়ে যায়।

এরপর সখীপুর থানার এসআই মোহাম্মদ আয়নুল হক বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে সখীপুর থানার এসআই ওমর ফারুক গত ২ জানুয়ারি আদালতে পাঁচ পুলিশ সদস্য ও দুই সোর্সসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। আদালত মামলার আটজন সাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এই দণ্ডাদেশ দেন।