শ্রীপুরে শিক্ষক খুন

রাসেল বলেছিল- 'বাবা টেনশন কইরো না তাড়াতাড়ি বাড়ি আসব'

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০   

গাজীপুর প্রতিনিধি

শিক্ষক রাসেল

শিক্ষক রাসেল

কিশোর-যুবাদের কাছে অনেকটা ফেরি করে ইয়াবা বিক্রি করত ইমরান মণ্ডল ও তার সাঙ্গোপাঙ্গ। তাতে বাদ সাধেন শিক্ষক রাসেল রানা। যার মাশুল দিতে হলো তাকে জীবন দিয়ে। রাসেল ঘোষণা দিয়েছিলেন, নিজের এলাকায় কোনোভাবেই ইয়াবা ঢুকতে দেবেন না। সেই ঘোষণাই কাল হয়ে দাঁড়ায় তার। 'মিটিং' আছে বলে বাড়ির সামনে থেকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় শিক্ষক রাসেলকে।

রাসেল শ্রীপুরের মাওনা ইউনিয়নের সিংদিঘী গ্রামের সুজন আলীর ছেলে। সোমবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে সিংদিঘী বাড়ির পাশে কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এলাকাবাসী জানান, স্নাতক শেষ করে স্থানীয় শিশুকানন বিদ্যানিকেতনে শিক্ষকতা করতেন রাসেল। পাশাপাশি টিউশনিও করতেন। সুজন আলীর তিন সন্তানের মধ্যে রাসেল সবার বড়। মাদকের বিরুদ্ধে বহুদিন ধরেই নানাভাবে আন্দোলন করছিলেন তিনি।

রাসেলের বাবা সুজন আলী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই আজ প্রাণ দিতে হলো তার কলিজার টুকরোকে। তিনি বলেন, "আমার চোখের সামনে থেকে ইমরান মণ্ডল মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায় রাসেলকে। যাওয়ার সময় রাসেল বলেছিল 'বাবা টেনশন কইরো না-তাড়াতাড়িই বাড়িতে চলে আসবো। কিন্তু তাড়াতাড়ি আর হয়নি।"

রোববার সকালে শ্রীপুরের বিলাইঘাটা এলাকার লবণদাহ খালের পাড় থেকে রাসেলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার দুই দিন অতিবাহিত হলেও অভিযুক্ত ইমরান মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, ইয়াবা বিক্রির জন্য ইমরান সিংদিঘীর চিশতি মোড় এলাকা বেছে নেয়। ওই এলাকায়ই রাসেলের বাড়ি। ইমরানকে কিছুদিন রাসেল প্রাইভেটও পড়িয়েছে। গত মাসের ২৫ তারিখে ইমরানকে ইয়াবাসহ পুলিশ আটকও করে। ওই রাতেই সে ছাড়া পায়। পুলিশ বলছে, ইমরানের কাছে ইয়াবা থাকার অভিযোগে তাকে ধরে আনা হয়। পরে তার কাছে ইয়াবা না পাওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পুরো দায় ইমরান চাপিয়ে দেয় রাসেলের ওপর। ইমরানের ধারণা রাসেলই পুলিশকে তথ্য দিয়েছেন। এ নিয়ে ক্ষিপ্ত ছিল ইমরান।

পুলিশের ধারণা, নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে শুধু ইমরান নয়, আরও ৭-৮ জন সরাসরি জড়িত থাকতে পারে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়া কিংবা পুলিশের কাছে ইমরানের ইয়াবা ব্যবসার তথ্য দেওয়া ছাড়াও অন্য কোনো বিষয় আছে কিনা সেটাও পুলিশ তদন্ত করছে।

শ্রীপুর থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, রাসেলের বাবা সুজন আলী বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। শিগগিরই জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে।