মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় টেংগারচর ইউনিয়নের বৈদ্যেগাঁও গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ গ্রুপের হামলায় পাঁচজন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে রুবেলের (৩২) এক হাতের কব্জি ও অন্য হাতের দুই আঙ্গুল কেটে নিয়েছে হামলাকারীরা।

বুধবার সকালের এ ঘটনায় আহত রুবেল ও কবির হোসেনকে (২২) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অপর তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৈদ্যেরগাঁও গ্রামে জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহজাহান খান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আজিম উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। এটা নিয়ে গজারিয়া থানায় পরস্পরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে। পূর্ব শত্রুতা ও একটি প্রকল্পের মাটি ভরাট কাজে চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়ে বিরোধে বুধবার সকালে শাহজাহান খানের লোকজন আজিম উদ্দিন ফরাজীর সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় রুবেলের এক হাতের কব্জি ও অন্য হাতের দুই আঙ্গুল কেটে নেয় হামলাকারীরা। এছাড়া কবিরকে উপর্যুপরি কুপিয়ে আহত করা হয়।

আজিম উদ্দিন ফরাজী অভিযোগ করেন, একটি প্রকল্পের বালু ভরাট কাজে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করে শাহজাহান খানের লোকজন। এ ঘটনায় বাঁধা দেওয়ায় সকালে বৈদ্যেরগাও বাজার এলাকায় শাহজাহান খানের লোকজন তার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা রুবেলের হাতের কব্জি ও আঙুল কেটে নেয় ও কবিরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। আহত দু'জনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

তবে শাহজাহান খান চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে একটি চিহ্নিত মহল।

গজারিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মামুন আল রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। তবে তাদের আটকের চেষ্টা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।