গ্যাসের লাইনে ছিদ্র থাকায় মসজিদের নিচে ফাঁকা অংশে গ্যাস জমেছিল। বিপুল পরিমাণ জমে থাকা গ্যাসের কারণেই নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লায় মসজিদে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এদিকে বুধবার সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় ছয় দিন পর গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। বাইতুস সালাত জামে মসজিদে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে তিতাসের তদন্ত দল। 

তদন্ত দলের কর্মকর্তাদের দাবি, গ্যাসলাইনে ছয়টি ছিদ্র ছিল। এসব ছিদ্র থেকে গ্যাস 'লিক' করে যেখানে ফাঁকা স্পেস পেয়েছে সেখানেই গেছে। তারা জানান, মসজিদের ভিত্তি (ফাউন্ডেশন) তৈরির সময় ৪ নম্বর কলামের পাশে আগে থেকে স্থাপিত গ্যাসের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেখানে ছিদ্র তৈরি হয়।

ভয়াবহ বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদের উত্তর ও পূর্বদিকের সব গ্যাসের লাইন পরীক্ষা করে বুধবার রাতে মেরামত করা হয়। এরপর রাতে লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। গত শুক্রবারের ঘটনার ছয় দিন পর ওই এলাকায় প্রথমবারের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হলো। এ কার্যক্রম দেখভালের সময় সেখানে উপস্থিত তিতাসের মহাব্যবস্থাপক ও তদন্ত দলের প্রধান আবদুল ওহাব তালুকদার এসব কথা বলেন।

তদন্ত দলের প্রধান বলেন, মসজিদ নির্মাণের সময় এর উত্তর দিকের ৪ নম্বর কলামের পাশে স্থাপিত গ্যাস লাইনটি ঘিরে ওই কলামের ফাউন্ডেশন তৈরি হয়েছে। লাইনটিকে কলামের ওপরে রেখে এর নিচ দিয়ে ফাউন্ডেশন দেওয়া হয়। ওই কাজ করার সময় পাইপলাইনের রেপিং নষ্ট হয়। এতে লাইনটি মাটির সংস্পর্শে এসে পরে ছিদ্র হয়েছে। সেই ছিদ্র থেকে গ্যাস বের হয়ে নিচে যেখানে ফাঁকা জায়গা পেয়েছে, সেখানে গিয়ে জমা হয়েছে। ওই স্থানে লাইনের মোট ছয়টি লিকেজ চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলোয় ক্ল্যাম্প লাগিয়ে মেরামত করা হয়।

আবদুল ওহাব আরও বলেন, মসজিদের পূর্বদিকের লাইনগুলোতে কোনো ছিদ্র ছিল না। শুধু উত্তরদিকে ছিদ্র পাওয়া গেছে। এগুলো মেরামতের পর মসজিদের ভেতরে সন্ধ্যায় তিন-চার ইঞ্চি পানি দিয়ে ভরে ফেলা হয়। এরপর ফুল প্রেশারে গ্যাস সরবরাহ করা হয় লাইনে। এরপর পরীক্ষা করে মসজিদের ফ্লোর থেকে গ্যাসের বুদবুদ বা লিক পাওয়া যায়নি। এখন এলাকার গ্যাসলাইনে ফুল প্রেশারে গ্যাস রয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিতাসের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ওই এলাকার গ্যাস সংযোগ নব্বইয়ের দশকে দেওয়া হয়েছে। মসজিদ ওই সময় নির্মিত হলেও প্রথমে সেটি টিনের বা ছাপরা দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। ২০০০ সালে মসজিদটি পাকা করা হয়। 

তিনি আরও বলেন, মসজিদ কমিটির সঙ্গে তদন্ত দল কথা বলেছে। মসজিদে দুটি বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল। এর মধ্যে একটি বৈধ ছিল না উল্লেখ করে আবদুল ওহাব বলেন, ঘটনার সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে তারা 'চেঞ্জওভার' করার সময় লাইনে স্ফূলিঙ্গ দেখা দেয়। এ থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে তদন্ত দল। বৃহস্পতিবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

গত শুক্রবার এশার নামাজের সময় মসজিদটিতে বিস্ফোরণে ৩৭ জন দগ্ধ হন। পরে তাদের মধ্যে ২৮ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।