ফরিদপুরের ভাঙ্গায় স্বর্না আক্তার (১৪) নামের এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের দেওড়া গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

স্বর্না মাদারীপুরের রাজৈঢ় থানার কোর্টবাড়ী শ্রীনদী গ্রামের সেলিম শেখের মেয়ে ও দেওড়া গ্রামের নজরূল বেপারীর স্ত্রী।

পুলিশ ও মৃতের পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, স্বর্না তার নানা বাড়িতে থেকে দেওড়া গ্রামের একটি স্কুলে পড়াশুনা করতো। তিন-চার মাস আগে একই গ্রামের বাসিন্দা নজরুলের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। কিছুদিন আগে দুই পরিবারের কাউকে না জানিয়ে তারা গোপনে বিয়ে করে দেওড়া বাজারে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিল। বুধবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের চকে নজরুল মাছ ধরতে যেতে চাইলে স্বর্না তাকে বাধা দেয় এবং নৌকায় ঘুরতে নিয়ে যেতে বলে বায়না ধরে। এই নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে নজরুল মাছ ধরতে চকে চলে যান। রাতে বাড়ি ফিরে ঘরের দরজা বন্ধ দেখে নজরুল তার স্ত্রীকে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভেতর থেকে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙ্গে তিনি ভেতরে ঢুকলে ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে স্বর্নাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় নজরুলের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে স্বর্নাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক শওকত হোসেন জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।