কক্সবাজারের টেকনাফে আবদুল আমিন ও মুফিজ আলম নামে দুইজনকে ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগে ওসি প্রদীপ সহ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হেলাল উদ্দীনের আদালতে এই মামলা হয়েছে। টেকনাফের বাহারছড়া এলাকার নিহত আবদুল আমিনের ভাই নুরুল আমিন এবং হোয়াইক্যং এলাকার নিহত মুফিজ আলমের ভাই মো. সেলিম বাদি হয়ে এই মামলা করেছেন।

বাদি পক্ষের আইনজীবী আবু মুছা মোহাম্মদ সাংবাদিকদের বলেন, দুটি মামলার একটি ৩৮ জন ও অন্যটিতে ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। 

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সুপারি ব্যবসায়ী আবদুল আমিনের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে টেকনাফ থানা পুলিশ। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর সকালে তাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। থানায় নিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ওসি প্রদীপ। বাধ্য হয়ে ৫০ হাজার টাকা দেয় পরিবার। বাকি টাকা দিতে না পারায় ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে পুলিশ আবদুল আমিনকে গুলি করে হত্যা করে।

মুফিজ আলমকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা এজাহারে বাদি উল্লেখ করেন, টেকনাফ থানা পুলিশ তার ভাই মুফিজ আলমের কাছ থেকে ১৫ লাখ চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে ২০১৯ সালের ১২ জুলাই তাকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। এই সময়ে পুলিশকে ৬ লাখ টাকা দেওয়ার পরও ১৩ জুলাই মুফিজ আলমকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়।

আইনজীবী আবু মুছা বলেন, এজাহার দুটি আমলে নিয়েছেন আদালত। ওই ঘটনায় অন্যকোনো মামলা আছে কিনা তা আগামী ধার্য দিনের মধ্যে আদালতকে জানাতে টেকনাফ থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। 

উল্লেখ্য, ক্রসফায়ারের নামে হত্যার অভিযোগে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে এ পর্যন্ত ১৫টি মামলা দায়ের হয়েছে।