ক্রিকেট খেলা অনুশীলনে নিয়মিতই স্টেডিয়ামে আসতো দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া নাদিম মাহমুদ ও নবম শ্রেণির ছাত্র মিজানূর রহমান। করোনার কারণে সবকিছু থমকে থাকলেও নিজেদের অনুশীলন বন্ধ রাখেনি তারা। অন্যদের সঙ্গে গাজীপুরের শহীদ বরকত স্টেডিয়াম মাতিয়ে রাখতো এই ক্ষুদে দুই খেলোয়াড়। বৃহস্পতিবারও যথারীতি অনুশীলেন আসে তারা। কিন্তু বাধ সাধে ভাদ্রের বৃষ্টি। এরই মধ্যে বৃষ্টিতে ভিজে এক দল তরুণ ফুটবল খেলতে মাঠে নামে। নাদিম ও মিজানও তরুণদের সঙ্গে নেমে পড়ে মাঠে। কিন্তু হঠাৎ করেই দুপুরে দিকে মাঠে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণ হারায় নাদিম ও মিজান। 

নিহত নাদিম মাহমুদ কালীগঞ্জ উপজেলার আজমতপুর এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে এবং জাঙ্গালীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গাজীপুর আইডিয়াল স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র মিজানুর রহমান জোড়পুকুরপাড় এলাকার আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তারা দু’জনই এ বছর গাজীপুর জেলা ক্রিকেট একাডেমি থেকে অনূর্ধ্ব-১৬ দলে খেলার কথা ছিল।

ক্রিকেট কোচ আনোয়ার হোসেন লিটন জানান, করোনার কারণে ক্রিকেট অনুশীলন বন্ধ রয়েছে। তারপরও কেউ কেউ নিজেদের ইচ্ছামতো স্টেডিয়ামে এসে অনুশীলন করে থাকে। বৃহস্পতিবারও তারা অনুশীলন করতে স্টেডিয়ামে আসে। বৃষ্টির কারণে তাদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য বলে লিটন বাসায় চলে যান। পরে তিনি জানতে পারেন তার কথা উপেক্ষা করে বৃষ্টিতে ভিজেই অন্যদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় মেতে উঠে নাদিম ও মিজান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বজ্রপাতের পর নাদিম ও মিজানকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। 

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডি‌ক‌েল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, মৃত অবস্থায় ওই দুই তরুণকে হাসপাতালে আনা হয়।