কর্মজীবী নারীকে অপহরণের অভিযোগে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শাহ জামান ও শুভাঢ্যা ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। 

গত বুধবার ঢাকার চার নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তাবাসুম ইসলামের আদালতে মামলা করেন কেরানীগঞ্জের এক নারী। আদালত বাদির জবানবন্দি গ্রহণ করে পুলিশকে তদন্তে করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেডের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক তুহিন রেজা, রাহাত, জি এম সারোয়ার, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শাহাদাত হোসেন ও পরিদর্শক (তদন্ত) আশিকুজ্জামান। মামলায় অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও চারপাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বাদী বলেন, কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের মীরেরবাগে দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি বসবাস করেন। চলতি বছরের ৩০ জুন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা চলমান। ৫ জুলাই মামলার এক নম্বর আসামি ইকবাল হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধর্ষণ মামলার অপর আসামিরা তিন পুলিশের সহায়তায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাকে ও সাক্ষীদের মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে।

বাদী এজাহারে আরও উল্লেখ করেন, ২১ জুলাই দুই সন্তানকে রুমে তালাবদ্ধ করে তাকে অস্ত্রের মুখে হত্যার হুমকি দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। আমি তাদের নগদ দশ হাজার টাকা দেই। বিষয়টি মোবাইলে তিন পুলিশকে জানানো হয়। এরপর আমাকে মামলার আসামি রাহাতসহ আরও চারপাঁচজন অপহরণ করে ইকবাল চেয়ারম্যানের তেলঘাটের অফিসে নিয়ে যায়। এরপর তারা আমাকে একটি গাড়িতে তুলে পল্টন থানাধীন বিজয়নগর সাইমন স্কাইভিউ টাওয়ারের সাততলার একটি কক্ষে তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। ইকবাল চেয়ারম্যান, জি এম সারোয়ার ও তুহিন রেজাসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ওই রুমে প্রবেশ করে। তাদের শেখানো কথা আমার মুখ দিয়ে বলিয়ে তা রেকর্ড করা হয়। এরপর আমাকে হুমকি ধর্ষণ মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়াও ২৩ জুলাই ইকবাল চেয়ারম্যান, তুহিন রেজা ও জি এম সারোয়ারের নির্দেশে রাহাত আমাকে আবারও অপহরণ করে। আমি মামলার আসামি তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানায়। তারা আমাকে নিরাপত্তা না দিয়ে উল্টো তাদের সঙ্গে যেতে বলেন।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি শাহ জামান বলেন, আদালতে আমার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার বিষয়ে কিছুই জানি না।