দুইদিনের ব্যবধানে ফের ময়মনসিংহ নগরীর কেওয়াটখালী এলাকায় ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রে আগুনের ঘটনা ঘটলো। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট আধা ঘণ্টার মধ্যেই আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। এতে এ বিভাগের চার জেলায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎসংযোগ ছিল না। পরে ৭ ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টা থেকে এলাকাভিত্তক সীমিত আকারে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুর সোয়া একটার দিকে সেখানে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে দু’টি ট্রান্সফরর্মারের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর কেওয়াটখালী এলাকায় ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের তিনটি ট্রান্সফর্মারের এক নং ৩ কেভি ট্রান্সফর্মারে বিকট শব্দে আগুনের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। 

গ্রিডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল হক বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফের আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে তিনটি ট্রান্সর্ফামারের মধ্যে দু’টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনের কারণে বিভাগের নেত্রকোণা, শেরপুরসহ চার জেলায় প্রায় দুই ঘণ্টার মত বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। এরপর আবার স্বাভাবিক হয়। তবে ময়মনসিংহ শহরের লাইন চালু করতে সমস্যা হচ্ছে। মেরামতের কাজ চলছে, আশা করা হচ্ছে অল্প সময়ের মধ্যেই লাইনটি চালু করা সম্ভব হবে।

বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এটা সবচেয়ে কষ্টের বিষয় যে দুইদিনের ব্যবধানে আবারও আগুনের ঘটনা ঘটলো। এতে আমরা খুব লজ্জিত হয়ে পড়েছি। মেরামতের কাজ চলছে, বিকেল থেকে সীমিত আকারে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। তাড়াতাড়ি পুরোদমে বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে। 

দুইদিনের ব্যবধানে উপকেন্দ্রে আগুন লেগে আবারও দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। সকল কলকারখানা সকাল থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। নগরবাসীর গোসল ও রান্নার কাজে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয়ে। সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালগুলো নিজস্ব জেনারেটর দিয়ে কিছু সময় কাজ চালাতে পারলেও পরবর্তীতে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক লক্ষীনারায়ণ মজুমদার বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের হাসপাতাল চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে বিকেলে বিদ্যুৎ পাওয়ায় হাসপাতালের কাজ স্বাভাবিক হয়েছে।

নগরীর বলাশপুর এলাকার ইউনানি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল ল্যাবরেটরিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম সিরাজুল হক সাজিদ বলেন, পরপর দুইদিন বিদ্যুৎ না থাকায় সকল প্রডাকশন বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে কোম্পানির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এভাবে একটি প্রতিষ্ঠান চালানো কঠিন।