উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

গাংনীতে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০   

মেহেরপুর প্রতিনিধি

মো. নজরুল ইসলামের এনআইডি কার্ড

মো. নজরুল ইসলামের এনআইডি কার্ড

মেহেরপুরের গাংনীতে জীবিত এক ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া কার্যালয়ে এক কৃষককে বেঁধে রাখার হুমকি ও সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানিসহ আরও নানা অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের প্রতিবন্ধী নজরুল ইসলাম বলেন, 'ব্যক্তিগত একটি কাজে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে সেখান থেকে জানানো হয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েব পোর্টালে আমার কোনো তথ্য নেই। আমি বেঁচে নেই এ কারণে ভোটার তালিকা থেকে আমার নাম বাদ দেওয়াসহ সব তথ্য অপসারণ করা হয়েছে। অথচ আমার কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে, যার নম্বর ৫৭১৪৭৯৪৩৫১৮৯৪। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্র নিয়ে গত বৃহস্পতিবার নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য গাংনী উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার কারণ জানতে চাই। কিন্তু সেখানকার কেউ সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে আমার ধারণা, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কবির উদ্দীন, আউটসোর্সিং কম্পিউটার অপারেটর তরিকুল ও মাহফুজুর রহমান।' সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে তাকে মৃত দেখানো হতে পারে বলেও ধারণা করছেন নজরুল ইসলাম।

এদিকে গত ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে স্মার্টকার্ড নিতে গেলে কৃষক আকসেদ আলীকে বেঁধে রাখার নির্দেশ দেন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তা কবির উদ্দীন। আকসেদ আলী বলেন, বেশ কিছুদিন আগে স্মার্টকার্ড নিতে গেলে করোনার অজুহাত দেখিয়ে কয়েক দিন পরে যেতে বলেন নির্বাচন অফিসের লোকজন। পরে গত ৮ সেপ্টেম্বর আবার সেখানে যাই। আমার স্মার্টকার্ডের বিষয়টি নির্বাচন কর্মকর্তা কবির উদ্দীনকে জানালে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এ সময় তার সহকর্মীকে নির্দেশ দেন আমাকে বেঁধে রাখার। কৃষক আকসেদ বলেন, আমি চোর না ডাকাত, যে আমাকে ধরে বেঁধে রাখবে? দেশে কি কোনো বিচার নেই।

এদিকে কৃষককে বেঁধে রাখার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় ওঠে। বিষয়টি তদন্ত করে ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তা কবির উদ্দীন, কম্পিউটার অপারেটর তরিকুল ও মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগের বিষয়ে কবির উদ্দীন বলেন, কৃষক আকসেদ আলীর সঙ্গে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, সেটা ঠিক হয়ে গেছে। জীবিত মানুষকে মৃত দেখিয়ে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মেহেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আহমেদ আলী বলেন, ভোটার তালিকার তথ্য সংগ্রহকারী সুপারভাইজররা ভুলটি করেছে। সংশোধনের জন্য আবেদন পাওয়া গেছে। আবেদনটি যথাযথ উপায়ে সংশোধনের জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। করোনার কারণে একটু সময় লাগবে। তবে ঠিক করে দেওয়া হবে। এক কৃষককে বেঁধে রাখার নির্দেশ দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ রকম ঘটনা তিনি শোনেননি। অভিযোগ পেলে দায়ী কর্মকর্তার কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।