অবশেষে জানা গেল বিজিবি সদস্যকে হত্যার রহস্য

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০     আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০   

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

গ্রেপ্তার তিন কিশোর- সমকাল

গ্রেপ্তার তিন কিশোর- সমকাল

এক কিশোরের সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য নুরুজ্জামানের। দীর্ঘদিন ধরে চলে ফোনালাপ ও সমকামিতা। কিশোরের মোবাইল খরচ, পকেট মানিও দিয়ে আসছিল নুরুজ্জামান। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ব্যাংক থেকে টাকা তোলার কথা শুনেই নুরুজ্জামানকে হত্যার পরিকল্পনা করে ওই কিশোর। তিন সহযোগীকে নিয়ে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর নুরুজ্জামানের বাড়িতে গিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

ঘটনার এক বছর পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিন কিশোরকে। মোবাইল ট্রাকিংয়ের ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে এ হত্যার উদ্দেশ্য ও উৎস খুঁজে পেয়েছে ঝিনাইদহ গোয়েন্দা পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো-শহরের হামদহ দাসপাড়ার শাহাবুদ্দীনের ছেলে আরাফাত (১৭), শহরের পাওয়ার হাউস পাড়ার মিন্টুর ছেলে নিশান (১৭) ও সদর উপজেলার রতনহাট গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে মিরাজ (১৬)। এ ঘটনায় জড়িত আরও একজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে ডিবি পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, প্রতিবেশী কিশোর আরাফাতের সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য নুরুজ্জামানের স্থানীয় চায়ের দোকান, খাবার হোটেলে দেখা-কথা হওয়ার কারণে সম্পর্ক হয়। ধীরে ধীরে তা সমকামিতায় রূপ নেয়। সমকামিতার কারণে প্রায়ই নুরুজ্জামানের বাড়িয়ে যেত আরাফাত। দীর্ঘদিন ধরে আরাফাতকে মোবাইল খচর, পকেট মানিও দিতেন তিনি। নুরুজ্জামানের স্ত্রী রাশিদা বেগম অসুস্থ হওয়ায় তিনি প্রায়ই হাসপাতালে থাকতেন। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাশিদা বেগম অসুস্থ হলে তার চিকিৎসার জন্য ব্যাংক থেকে টাকা তোলার বিষয়টি আরাফাতকে বলেন নুরুজ্জামান।

পুলিশ জানায়, ঘনিষ্টতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঘটনার দিন রাতে আরাফাত ও তার সমবয়সীদের বাসায় ডাকেন নুরুজ্জামান। এক বন্ধুকে বাসায় নিয়ে পাহাড়ায় রেখে আরাফাত তার দুই বন্ধুকে নিয়ে রাত ৮ টার দিকে বাসায় যায়। সেখানে সমকামিতায় লিপ্ত হয়। রাত সাড়ে ১১ টার দিকে নুরুজ্জামানকে শ্বাসরোধ, মাথায় ও গোপনাঙ্গে আঘাত করে ঘরে থাকা টিভি, মোবাইল ফোন, কাপড়, প্রসাধনী সামগ্রী একটি ট্রলি ব্যাগে করে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

পরদিন সকালে নুরুজ্জামানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রাশিদা খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি মামলাটি ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান। মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক নজরুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, শুরুতে লুট হওয়া মোবাইল বন্ধ থাকায় ব্যবহারকারীকে খুজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে এলাকায় খোঁজ খবর শুরু করেন পরিদর্শক নজরুল ইসলাম। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে আরাফাতের সাথে ঘনিষ্টতার বিষয়টি নিশ্চিত হলে তাকে প্রথম সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়। আরাফাতের সাথে অন্যদের বন্ধুত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাড়ানো হয় সন্দেহের তালিকার সংখ্যা।

পরে মোবাইল ফোনের কললিস্টের সূত্র ব্যবহার করে আরাফাতের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করে আরাফাতকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার বিষয়টি আরাফাত স্বীকার করে। এরর আরও বিষয়টি নিশ্চিত হলে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় নিশান ও মিরাজকে। কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া আরও একজন পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আরাফাত ১৩ সেপ্টেম্বর এবং নিশান ও মিরাজ ১৪ সেপ্টেম্বর হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।