বরিশালে লঞ্চের কেবিনে নারী হত্যার ঘটনায় ১ জন গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০     আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০   

বরিশাল ব্যুরো

ঢাকা থেকে বরিশালে আসা যাত্রীবাহি লঞ্চ পারাবত- ১১ এর কেবিন থেকে উদ্ধার হওয়া নিহত নারীর যাত্রীর হত্যার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার নাম মনিরুজ্জামান চৌধুরী (৩৪)। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঢাকার মিরপুর- ১ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ইনভেষ্টিকেশন ব্যুরো (পিবিআই)।

এর আগে মঙ্গলবার বিকালে ওই নারীর পরিচয় পাওয়া যায়। তার নাম জান্নাতুল ফেরদৌস লাবনী (২৯। বাবা আব্দুল লতিফ মিয়া ও মা মমতাজ চোধুরীর সঙ্গে ঢাকার পল্লবী-২ নম্বর এলাকার বসবাস করতেন তিনি। তাদের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকায়। লাবনী উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন। এক ভাই, তিন বোনের মধ্যে লাবনী সবার ছোট। 

গ্রেপ্তার মনিরুজ্জামানের দাবি, নিহত জান্নাতুল ফেরদৌস লাবনী তার স্ত্রী। তারা ঢাকা থেকে লঞ্চে বরিশালে যাচ্ছিলেন। পথে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে তিনি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে লাবনীকে হত্যার পর পালিয়ে যান।

বুধবার সকালে পিবিআই’র বরিশাল কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার হুমায়ন কবীর।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নিহত নারীর সঙ্গে থাকা এক পুরুষকে শনাক্ত করা হয়। পরে প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তির অবস্থান নিশ্চিত হন তারা। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঢাকার মিরপুর- ১ এলাকায় দারুস সালাম প্রিন্সিপাল আবুল কালাম রোডে সরকারি আবাসিক এলাকা থেকে মনিরুজ্জামান চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
 
গ্রেপ্তার মনিরুজ্জামানের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পিবিআই জানিয়েছে, সোমবার সকালে লঞ্চ বরিশাল নৌবন্দরে পৌছার পর মরদেহ কেবিনের মধ্যে রেখে নেমে যান মনিরুজ্জামান। পরে বাসে ঢাকায় চলে যান। লাবনীর ব্যবহৃত ওড়না ও মুঠোফোনসহ অন্যান্য আলামত মনিরুজ্জামানের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মনিরুজ্জামান পেশায় রাইড শেয়ার চালক। লাবনী তার তৃতীয় স্ত্রী। অপরদিকে লাবনীরও আগে একটি বিয়ে ছিল। নিহত ওই নারী মনিরুজ্জামানের প্রকৃত স্ত্রী কি-না তা নিশ্চিত হতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নৌ পুলিশের পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, মঙ্গলবার বিকালে ঢাকা থেকে আব্দুল লতিফ মিয়া বরিশালে এসে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তার মেয়ে লাবনীর বলে শনাক্ত করেন। পরে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিহতের পরিবার জানায়, লাবনীর স্বামী পেশায় ইলেক্ট্রিশিয়ান। তাদের দুই সন্তান রয়েছে।

লাবনীর পরিবারের দাবি,  চাকুরির প্রলোভনে গত রোববার ঢাকার সদরঘাট থেকে মনিরুজ্জামানের সঙ্গে লঞ্চযোগে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন লাবনী। ওইদিন রাত ৯ টা পর্যন্ত লাবনীর সঙ্গে ফোনে কথা হয় তার বাবার।

উল্লেখ্য, গত সোমবার সকালে ঢাকা থেকে বরিশালে আসা যাত্রীবাহি লঞ্চ পারাবত- ১১ এর ৩৯১ নম্বর কেবিন থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।