কুমিল্লায় বাসে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, চালক-হেলপার গ্রেপ্তার

সুপারভাইজার পলাতক

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০   

কুমিল্লা সংবাদদাতা

কুমিল্লায় তিশা প্লাস পরিবহনের একটি বাসের ভিতরে এক তরুণী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ওই তরুণী বাসটির যাত্রী ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত থেকে এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি নিয়ে কুমিল্লা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবারের ওই সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ইতিমধ্যে বাসের চালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার আদালতে গ্রেপ্তারকৃত দু'জনের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। তবে ঘটনার চার দিন পার হলেও এখনো অধরাই রয়ে গেছেন ঘটনার অন্যতম প্রধান আসামী বাসের সুপারভাইজার আলম। পুলিশের দাবি, সুপারভাইজার আলমকে গ্রেপ্তারে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

গ্রেপ্তারকৃত বাসচালক আরিফ হোসেন সোহেল কুমিলল্গার সদর দক্ষিণ থানার নেউরা গ্রামের শরীফ হোসেনের ছেলে এবং হেলপার বাবু শেখ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কামিনারবাগ গ্রামের শেখ ওয়াজেদের ছেলে। তারা দু'জনই সদর দক্ষিণ থানার নোয়াবাড়ি (পদুয়ার বাজার) ও মধ্যম আশ্রাফপুর এলাকায় বসবাস করেন। এ ঘটনায় অপর অভিযুক্ত বাসের সুপারভাইজার আলম জেলার চান্দিনা উপজেলার আটচাইল গ্রামের কবির মিয়ার ছেলে। গত মঙ্গলবার ভোরে ওই তিনজন মিলে সদর দক্ষিণ থানাধীন পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় ওই তরল্ফম্নণীকে দুই দফায় ধর্ষণ করে।

পুলিশ ও নির্যাতিত ওই তরুণীর পরিবার জানায়, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাসিন্দা ওই তরুণী কিছুদিন আগে ঢাকার আবদুল্লাহপুরে তার জেঠাতো বোনের বাসায় যান। আবদুল্লাহপুর থেকে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে গত সোমবার বিকেলে রওনা দিয়ে রাতে লোকাল বাসযোগে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে পৌঁছান তিনি। এরপর ওইদিন রাত প্রায় ১২ টার দিকে তিনি কুমিল্লা-ঢাকা রুটে চলাচলকারী তিশা প্লাস পরিবহনের একটি বাসে উঠেন কুমিলল্গা নগরীর শাসনগাছার উদ্দেশ্যে। পথিমধ্যে ওই তরুণী বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানালে তারা নামিয়ে দেবেন বলে তাকে আশ্বাস দেন। কিন্তু ওই বাসের চালকসহ অন্যারা তরল্ফম্নণীকে নগরীর শাসনগাছায় না নামিয়ে অন্য যাত্রীদের বিভিন্ন গন্তব্যে নামিয়ে দেয়। পরে চালক কৌশলে বাসটি সদর দক্ষিণ থানাধীন পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের আল-শাকিল হোটেলের সামনে নিয়ে যায়। সেখানে বাসের দরজা-জানালা বন্ধ করে দিয়ে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে বাসের হেলপার, চালক ও সুপারভাইজার মিলে তাকে গণধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর চালক আরিফ হোসেন সোহেল বাস থেকে নেমে গেলে ওই তরুণীকে পদুয়ার বাজার এলাকায় হেলপার বাবু শেখের বাসায় নিয়ে হেলপার ও সুপারভাইজার আলম ফের ধর্ষণ করে। পরে ওইদিন সকাল ৬টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় বাসা থেকে বের করে দিয়ে তাকে চলে যেতে বলেন ধর্ষকরা।

এদিকে, এ ঘটনার পর ওই তরুণী মোবাইলফোনে বিষয়টি তার মাকে জানায়। পরে মঙ্গলবার তার মা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছে ঘটনার বিস্তারিত জানেন এবং ধর্ষকদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করেন। এরপর ওইদিন রাতেই ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে তিন ধর্ষকের বিরুদ্ধে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় গণধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। বুধবার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নির্যাতিত ওই তরুণীর চিকিৎসা, ডাক্তারী পরীক্ষা ও আদালতে জবানবন্দি প্রদানের পর ওইদিন রাতে তাকে তার মায়ের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।

নির্যাতিত ওই তরুণী জানায়, গাড়িটি ছিল লাস্ট টিপ। ভোর বেলায় রাস্তায় লোকজন কম ছিলো। গাড়ি থেকে অন্য সব যাত্রীরা নেমে পড়ার পর হঠাৎ গাড়ির দরজা বন্ধ করে দেয় তারা। এরপর ভেতরের প্রায় সব লাইট বন্ধ করে দিয়ে তারা আমার উপর পাশবিক নির্যাতন শুরু করে। আমি তাদেরকে ধর্মের বাবা-ভাই কত কিছু ডেকেছি, তারপরও রক্ষা পাইনি। আমি ওই লম্পটদের কঠোর শাস্তি চাই।

ওই বাসের মালিক ও তিশা প্লাস পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দুলাল হোসেন অপু বলেন, ঘটনার পর আমাদের সহযোগীতায় চালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আমরাও তাদের কঠোর শাস্তি চাই।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর দক্ষিণ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর জানান, বৃহস্পতিবার আদালতে গ্রেপ্তারকৃত ওই দুই আসামীর সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। তবে রিমান্ডের শুনানি হবে আগামী রোববার বা সোমবার। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আর অপর আসামী আলম পলাতক রয়েছে। তবে তাকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।