ডিএনএ প্রতিবেদনে মিলল চাচাই কিশোরীটির ধর্ষক

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০   

কুমিল্লা সংবাদদাতা

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে এক ব্যক্তির (৪৫) বিরুদ্ধে নিজের কিশোরী ভাতিজিকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল। এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। এরই মধ্যে ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়।

তবে ঘটনায় শুরু থেকেই বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিল ধর্ষক চাচা। পরে পুলিশের উদ্যোগে শিশুটির ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে প্রমাণ মেলে চাচাই কিশোরীর ধর্ষক। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার একটি গ্রামে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বরে ওই কিশোরীর মা ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য কুমিল্লার একটি ক্লিনিকে পাঁচ-ছয় দিন ভর্তি ছিলেন। তখন বাড়িতে কেউ না থাকায় আপন চাচা সহজ-সরল প্রকৃতির মেয়েটিকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে চার দিন ধর্ষণ করে। ভয়ে মেয়েটি কাউকে কিছুই জানায়নি। কিছুদিন পরে তার মা অসুস্থতা নিয়ে মারা যান। এরই মধ্যে ওই কিশোরী আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হয়।

শেষ পর্যন্ত স্থানীয় পর্যায়ে সালিশ বসলে কিশোরী এ ঘটনার জন্য তার চাচাকে দায়ী করে। কিন্তু ওই ব্যক্তি ঘটনাটি পুরোপুরি অস্বীকার করে। স্থানীয়ভাবে বিচার না পেয়ে গত ১৩ জুন কিশোরীর বাবা তার ভাইকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। পরদিন ১৪ জুন পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু পুলিশের কাছে ও আদালতে বারবারই সে ধর্ষণের কথা অস্বীকার করে এসেছে।

এদিকে গত জুন মাসের শেষ দিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওই কিশোরী একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। পরে নাঙ্গলকোট থানার ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর মধ্যস্থতায় শিশুটিকে নোয়াখালীর চৌমুহনীতে এক নিঃসন্তান দম্পত্তির কাছে দত্তক দেওয়া হয়। সন্তানটিকে দত্তক দেওয়ার শর্ত ছিল, ডিএনএ পরীক্ষাসহ মামলার তদন্তের স্বার্থে যে কোনো সময় শিশুটিকে হাজির করতে হবে। পরে শিশুটির ও ধর্ষকের ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেয় পুলিশ।

এরই মধ্যে ধর্ষক জামিনে মুক্ত হলে তার কিছু উৎসাহী আত্মীয়স্বজন ফুলের মালা পরিয়ে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রাসহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যায়। সে বাড়িতে গিয়ে আত্মীয়স্বজনের জন্য ভূরিভোজেরও আয়োজন করে। মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ধর্ষককে ফুলের মালা পরিয়ে মোটরশোভাযাত্রা সহকারে বাড়ি নেওয়ার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি আদালতের নজর এলে জামিনের ১৫ দিন পর বিচারক ওই ব্যক্তিকে আদালতে হাজির হতে বলেন। পরে তার জামিন বাতিল করে ফের কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নাঙ্গলকোট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আখতার হোসেন বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার ফল আমাদের হাতে এসেছে। শিশুটির ডিএনএ ওই ধর্ষক চাচার সঙ্গে মিলে গেছে। এখন ধর্ষককে অভিযুক্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে।