ফোন না ধরার পশু চিকিৎসককে মারধর করলেন স্বেচ্ছোসেবক লীগ নেতা

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০   

 সোনাগাজী(ফেনী) প্রতিনিধি

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ফারুক হোসেন

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ফারুক হোসেন

ফেনীর সোনাগাজীতে ফোন না ধরায় আমজাদ হোসেন নয়ন নামের এক পশু চিকিৎসককে হুমকি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে। রোববার বিকালে উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের স্বরাজপুর গ্রামে ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ফারুক হোসেন। তিনি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি।

এ ঘটনায় ওই পশু চিকিৎক বাদী হয়ে ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে পল্লী আদালতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

পশু চিকিৎসক আমজাদ হোসেন নয়ন জানান, গত কয়েক বছর ধরে তিনি ফারুক হোসেনের খামারে গরুর চিকিৎসা করছেন। ফারুক হোসেন যখন ডেকেছেন তখনই তিনি খামার গিয়ে গরুর চিকিৎসা করেন। কিন্তু কোনবারই ওই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা তাকে যথাযথ পারিশ্রমিক দেননি।

তিনি আরও জানান, গত শনিবার রাতে ওই নেতা ফোন দিলে অসুস্থতার কারণে তিনি ফোনটি ধরতে পারেননি। পরদিন বিকালে সহকর্মীসহ বাইক যোগে বাড়ি ফেরার পথে ফারুক হোসেন তাদের গতিরোধ করে ফোন না ধরার অভিযোগ তোলেন। পরে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং কিল ঘুষি মেরে আহত করেন। ভবিষ্যতে ফোন না ধরলে আবারও মারধর করার হুমকি দেন।

পশু চিকিৎসক বলেন, পরে আমি বিচার চেয়ে পল্লী আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করি।

স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি রফিক মাষ্টার জানান, ফারুক আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে একে একে দলীয় অনেক পদ-পদবি বাগিয়ে নিয়েছেন। তিনি বর্তমানে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি, জেলা পরিষদের সদস্য, উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান ও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি।তার বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের হয়রানির অনেক অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, পশু চিকিৎসক নয়নকে মারধরের বিষয়টি জেনেছি, কিন্তু আমাদের কিছুই করার নেই।

অভিযোগ অস্বীকার করে ফারুক হোসেন জানান,পশু চিকিৎসক নয়নের অবহেলাজনিত কারণে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অসুস্থ গরুর চিকিৎসার জন্য পশু চিকিৎসককে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তার কাছে শুধু ফোন না ধরার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। ওই চিকিৎসকে মারধর ও হুমকি দানের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। তার বিরুদ্ধে দলীয় একটি চক্র ষড়যন্ত্র করছে বলেও অভিযোগ করেন ওই নেতা।