ঝগড়া থামাতে যাওয়া নারীকে পিটিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০   

কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় প্রতিবেশীর ঝগড়া থামাতে গিয়ে লাঠির আঘাতে নিহত হলেন নারগিছ আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূ। এ ঘটনায় কসবা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের সাতগ্রাম এলাকায় সোমবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহত নারগিছ আক্তার ওই গ্রামের দরিদ্র ইজিবাইক চালক স্বপন মিয়ার স্ত্রী ও পাশ্ববর্তী শিকারপুর গ্রামের ছিবিল মিয়ার মেয়ে। 

স্থানীয়রা জানায়, সোমবার বিকেলে উপজেলার বিনাউটি সাতগ্রামের রাজু মিয়ার (২৮) পরিবার চাচা নুরু মিয়ার সঙ্গে ঝগড়ায় জড়ায়। পাশের বাড়ির বাসিন্দা হওয়ায় দুই সন্তানের জননী নারগিছ আক্তার তাদের ঝগড়া থামাতে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাজু মিয়া হাতে থাকা লাঠি দিয়ে সজোরে তার মাথার পেছনে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন নারগিছ আক্তার। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তন্তর বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় নারগিছ আক্তারের। লাশ নিয়ে বাড়িতে আসলে ক্ষিপ্ত রাজু মিয়া নিহতের বাড়িতে এসে পুনরায় তার স্বামী স্বপন মিয়াকেও মারধোর করেন। পরে নিহতের স্বজনরা গিয়ে থানায় খবর দিলে সন্ধ্যায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই নিহত নারগিছ আক্তারের মা সায়েরা বেগম বাদী হয়ে ৩ জনসহ আরো অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে কসবা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

কসবা থানার ওসি মোহাম্মদ লোকমান হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঝগড়া থামাতে যাওয়ায় নারগিছ আক্তার নামে এক গৃহবধুকে মেরে ফেলার অভিযোগ নিহতের মা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।