স্কুলছাত্রী খুন

নীলার পরিবারকে সাভার ছাড়ার হুমকি দিয়েছিল মিজানের বাবা

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০   

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার

'আপনার ছেলে আমার মেয়েকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উক্ত্যক্ত করে, রিকশা থেকে নামিয়ে জোরপূর্বক ছবি তোলে, নানা ধরনের প্রস্তাব দেয়। ছেলেকে আপনারা একটু শাসন করেন। আমার মেয়ের পথ থেকে ওকে সরে যেতে বলেন। আমরা নিরীহ মানুষ। ছেলেমেয়েকে একটু পড়াশোনা করানোর জন্য শহরে এসেছি; কিন্তু আপনার ছেলের অত্যাচারে এখন আমরা দিশেহারা। আপনারা আমাদের বাঁচান।'

নিহত নীলা রায়ের মা মুক্তি রায় এভাবেই বারবার আকুতি জানিয়েছিলেন বখাটে মিজানের বাবা আব্দুর রহমানের কাছে। কিন্তু আব্দুর রহমান তার ছেলেকে শাসন করা দূরের কথা উল্টো মেয়েকে নিয়ে সাভার ছেড়ে গ্রামের বাড়ি চলে যেতে বলেন। সাভার ছেড়ে না গেলে তাদের বড় ধরনের ক্ষতি হতে হবে বলেও শাসিয়ে দেন। এরপরই ঘটে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ড। 

গত রোববার রাত ৯টার দিকে ভাইকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথে বখাটে মিজান ও তার সহযোগীরা রিকশা থেকে নীলাকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে মিজানদের একটি পরিত্যক্ত বাড়িয়ে নিয়ে যায়। সেখানে অ্যাসেড স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী নীলাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও মিজানের প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হতে ভয়ভীতি দেখায়। নীলা তার প্রস্তাবে রাজি না হলে ক্ষিপ্ত হয়ে মিজান উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় সোমবার সাভার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহত নীলার বাবা নারায়ণ রায়। কিন্তু ঘটনার দু'দিন পেরিয়ে গেলেও জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। বখাটে মিজান ছাড়াও মামলার আসামি করা হয়েছে তার বাবা-মা ও অজ্ঞাত কয়েকজনকে। ঘটনার পর ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইদুর রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জি ও মহিলা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দিপালী চক্রবর্ত্তী ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার পরিদর্শক নির্মল কুমার দাস জানান, জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।

জড়িতদের শাস্তি দাবি মহিলা পরিষদের: দশম শ্রেণির ছাত্রী নীলা রায়কে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। 

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, প্রতিনিয়ত কিশোরী, তরুণী, স্কুলছাত্রীসহ নারীরা যৌন নিপীড়ন, উত্ত্যক্তকরণের কারণে নৃশংস নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছে এবং বর্বর হত্যার শিকার হচ্ছে। মহিলা পরিষদ মনে করে, স্কুলছাত্রীকে প্রকাশ্যে রিকশা থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি। সামাজিক অবক্ষয়, বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির ফলে তরুণদের মধ্যে এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।