প্রতিদিন চাঁদপুর, ব্রা‏হ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লাসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি জেলার কয়েক হাজার রোগী সেবা নিতে আসেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে। ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালে নিয়মিত ভর্তি থাকেন এক হাজারের বেশি রোগী। এই হাসপাতালে স্থাপন করা হয়েছে ১৫৪ শয্যার করোনা হাসপাতাল।

কিন্তু বৃহত্তর কুমিল্লার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার প্রধান এই হাসপাতালটি চিকিৎসক ও রোগীদের কাছে এখন দুর্ভোগের আরেক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় পুরো হাসপাতাল এলাকাটি। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে হাসপাতাল আঙিনায় সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার। সেখানে এখন হাঁটু পানি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চিকিৎসক, স্টাফ, রোগী ও রোগীর স্বজনরা। দীর্ঘ সময় ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল না থাকায় এ দুরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা গেছে, প্রধান ফটকের সামনে হাঁটু সমান পানি জমে রয়েছে। অন্য ফটক দিয়ে রোগী ও রোগীর স্বজনরা আসা-যাওয়া করলেও সেখানেও রয়েছে জলাবদ্ধতা। আশেপাশের ময়লা আবর্জনা ভাসছে হাসপাতালের আঙিনায়। নিচতলার এক্সরে বিভাগ সংলগ্ন স্থানটি ভিজে স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে গেছে। হাসপাতাল মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গা অনেকটা পুকুরে পরিণত হয়েছে। সেখানে মাগুর ও কৈ মাছ ঘাঁই মারছে! হাসপাতাল এলাকা নিচু হওয়ায় আশেপাশের সব পানি এখানে ঢুকে পড়ছে। 

হাসপাতালের কয়েকজন ডাক্তার বলেন, 'জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করা হবে, হচ্ছে শুনছি কয়েক বছর ধরে। বাস্তবে এই সমস্যার কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই।'

এদিকে, জলাবদ্ধতার কারণে মুমূর্ষু রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য পরিবহনের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। রাতে জরুরি প্রয়োজন হলেও বের হতে দুর্ভোগে পড়ছেন রোগীর স্বজনরা। 

মুরাদনগর থেকে আসা আলমগীর হোসেন নামের রোগীর এক স্বজন বলেন, 'নানা প্রয়োজনে প্রতিদিন একাধিকবার হাসপাতালের বাইরে যেতে হয়। দেখা গেলো মধ্যরাতে ওষুধের দরকার পড়েছে, তাই বের হতে হলো। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে সময় নষ্ট হচ্ছে। আবার এসব ময়লা পানি গায়ে লাগার কারণে বিভিন্ন রোগও হতে পারে।'

নাঙ্গলকোট থেকে রোগী নিয়ে আসা আনোয়ার হোসেন বলেন, 'দশদিন ধরে আমার শ্বশুরকে এ হাসপাতালে ভর্তি রেখেছি। দুইবার অপারেশন হয়েছে। বারবার বাইরে যেতে হয়। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে।'

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, 'হাসপাতাল এলাকাটি নিচু হওয়ার কারণে আশপাশের সব পানি এখানে ঢুকে পড়ছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে সিটি করপোরেশনে বারবার যোগাযোগ করেছি। তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, বাখরাবাদ হয়ে একটি আউটলাইন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করবেন। দ্রুত একটি টেন্ডার প্রক্রিয়া হওয়ার কথা। আশা করি, শিগগিরই এই সমস্যা কেটে যাবে।'

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর শওকত হোসেন বলেন, 'এ সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এজন্য হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার করা হবে।'