যশোরে বাসের মধ্যে এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পরিবহন শ্রমিক মনির হোসেনকে (২৮) পুলিশ আটক করেছে। জব্দ করা হয়েছে বাসটিও। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে স্থানীয় মনিহার স্ট্যান্ডের অদূরে বকচর কোল্ডস্টোরেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার যশোর জেনারেল হাসপাতালে ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সালাউদ্দিন শিকদার জানান, ওই তরুণী রাজশাহী থেকে এমকে পরিবহনের একটি বাসে বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় যশোর মনিহার বাসস্ট্যান্ডে এসে পৌঁছান । এসময় তার গন্তব্য মাগুরার শালিখাতে যাওয়ার কোন বাস না থাকায় তিনি মনির হোসেনকে ডেকে রাত থাকার জন্য আশ্রয় চান। মনির কৌশলে তাকে পাশ্ববর্তী বকচর কোল্ডস্টোরেজ এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসের মধ্যে নিয়ে ধর্ষণ করে। তাদের দু’জনকে বাসের মধ্যে অবস্থানের বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় কয়েকজন পরিবহন শ্রমিক সেকানে গিয়ে তাদেরকে চড়-থাপ্পর দেয়। একপর্যায়ে মেয়েটি তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার ও অভিযুক্ত মনিরকে আটক করেন।

আটক মনির এমকে পরিবহনের কন্ডাকটর। বাড়ি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামে। ভাড়া থাকেন যশোর শহরতলির রামনগর ধোপাপাড়ায় শহিদুলের বাড়িতে।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, মনির ওই মেয়েটির পূর্ব পরিচিত। ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরেই সে মনিরকে ডেকে নেয় এবং তার কাছে আশ্রয় চায়।

ওই তরুণী বলেন, বাড়িতে ফেরার উপায় না থাকায় তিনি বাসেই অবস্থান করছিলেন। তাকে হেলপার মনির পানীয় দেয়। তা পান করে তিনি গভীর ঘুমে ঢলে পড়েন। এরপর তাকে বাসের মধ্যে ধর্ষণ করে। মনির ছাড়াও আরও দু’জন তাকে নির্যাতন করে।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জাহিদ হাসান হিমেল বলেন, ওই তরুণী শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এর রেজাল্ট হাতে পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে তার সাথে কী হয়েছে।

যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, স্বামী পরিত্যাক্তা ওই নারীর বাড়ি মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার শতখালী গ্রামে। তিনি রাজশাহীতে একটি ক্লিনিকে আয়ার চাকরি করতেন। চাকরির সূত্র ধরে গত একবছর যশোর থেকে রাজশাহী যাতায়াতের সুবাদে এমকে পরিবহনের কন্ডাকটর মনিরের সাথে ঘনিষ্ঠতা হয় মেয়েটির। যশোর এস মেয়েটিই ডেকে নেয় মনিরকে।

তিনি জানান, মেয়েটির পরিবারকে খবর দেয়ার পর তারা যশোর এসেছেন। ঘটনার ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।