জমজ বোনসহ তিনশিশু ও এক গৃহবধূকে ধর্ষণ, বাড়িওয়ালাসহ গ্রেপ্তার ৬

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২০   

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার

গ্রেপ্তারের পর বাড়িওয়ালা হেলাল উদ্দীন -সমকাল

গ্রেপ্তারের পর বাড়িওয়ালা হেলাল উদ্দীন -সমকাল

সাভারের আশুলিয়ায় পৃথক দুটি ঘটনায় যমজ বোনসহ তিন শিশু ও এক গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ এক বাড়িওয়লাসহ অভিযুক্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। 

পুলিশ জানায়, গত ৬ অক্টোবর আশুলিয়ার তৈয়বপুর উত্তর মোল্লাপাড়া এলাকায় বাড়িওয়ালা কর্তৃক যমজ বোনসহ ওই তিন শিশু ধর্ষণে শিকার হয়। ঘটনার দুই দিন অতিবাহিত হওয়ার পর এলাকাবাসী বিষয়টি জানতে পেরে ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশকে ধর্ষণের বিষয়টি জানায়। এরপর আশুলিয়া থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন শেখকে (৫৭) গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে যমজ শিশু দুটির বাবা আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। নির্যাতনের শিকার ওই শিশুরা পরিবারের সঙ্গে হেলালের বাড়িতে বাড়া থাকতো। হেলাল উদ্দিন শেখ ময়মনসিংহ জেলার গফরগাও থানার ছয়ানী রসুলপুর গ্রামের মৃত ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও শিশুদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ৯ বছরের দুই যমজ মেয়েকে নিয়ে পোশাক শ্রমিক মা-বাবা তৈয়বপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তাদের মা-বাবা কাজে গেলে সুযোগ বুঝে বাড়িওয়ালা হেলাল উদ্দিন জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে জমজ দুই বোনসহ প্রতিবেশী আরও এক শিশুকে তার ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে শিশুদের বাবা-মা কাজ থেকে বাসায় ফিরে এলে তারা কান্নাকাটি করে ঘটনার বর্ণনা দেয়। এবিষয়ে তারা বাড়ির মালিক হেলাল উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে উল্টো তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ঘটনার দুই দিন পর বিষয়টি এলাকাবাসীর মধ্যে জানাজানি হলে কেউ একজন ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানায়। এরপর আশুলিয়া থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ির মালিক হেলালকে গ্রেপ্তার করে।

অপরদিকে আশুলিয়ায় রুস্তমপুরে এক গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নির্যাতিতা গৃহবধূর অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে রোস্তমপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

তারা হলেন- রাজশাহী জেলার রাজাপাড়া থানার শ্রীরামপুর গ্রামের মোহাম্মদ শেখের ছেলে সাইফুল ইসলাম (১৮), আশুলিয়া রোস্তমপুর এলাকার কৃষ্ণসাহার ছেলে পাপ্পু সাহা (১৯), একই এলাকার মনোরঞ্জন সাহার ছেলে মিলন (২২), সনাতন সাহার ছেলে জ্যোতির্ময় সাহা (১৯) ও অদম সরকারের ছেলে অন্তর (২০)।

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে সাইফুল ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূর কাছে কিছু টাকা ধার চায় এবং টাকা নিয়ে তাকে আশুলিয়ার রুস্তমপুরে আসতে বলেন। কথামতো গত ২৪ সেপ্টেম্বর ওই গৃহবধূ মিরপুর থেকে টাকা দেওয়ার জন্য আশুলিয়ার রুস্তমপুরে আসেন। পরে সাইফুল ওই গৃহবধূকে এলাকার একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে সাত বন্ধু মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আশুলিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।

আশুলিয়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউল ইসলাম জানান, ধর্ষণের শিকার তিন শিশু ও গৃহবধূকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার পাঁচজন গৃহবধূকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। তাদের সকলকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।