চট্টগ্রামে গাড়ি ছিনতাই চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার

১৫ দিন আগে ছিনতাই হওয়া প্রাইভেট কার উদ্ধার

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২০   

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রাম গাড়ি ছিনতাই চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রোববার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ১৫ দিন আগে সংঘঠিত একটি প্রাইভেট কার ছিনতাই মামলার তদন্তে নেমে চক্রটির হদিস পায় পুলিশ।

গ্রেফতার ছয়জন হলেন- সীতাকুণ্ড থানার জঙ্গল সলিমপুরের জলিল টেক্সটাইল মিল গেইটের মো. শফিউদ্দিনের ছেলে মো. মহিউদ্দিন, ঈমাননগর গ্রামের মো. শাহজাহানের ছেলে মো. নিজাম উদ্দিন, বাড়বকুণ্ড মধ্যম মাহমুদাবাদ গ্রামের মো. নুরুল আলমের ছেলে মো. রফিকুল আলম বাদশা, আনোয়ারা থানার বারখাইন তৈলারদ্বীপ গ্রামের আবদু শুক্কুরের ছেলে মো. সোহেল, মীরসরাই থানার মগাদিয়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. জাবেদ হোসেন ও ঝিনাইদহ জেলার সদর থানার বংকিরা বিশ্বাস পাড়ার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. শাহীন রেজা।

সিআইডি সূত্র জানায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১১টার দিকে চার ব্যক্তি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কদমরসুল থেকে পাক্কা রাস্তায় যাওয়ার জন্য যাত্রীবেশে প্রাইভেট কারে ওঠেন। গাড়ি ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ অতিক্রমের পর চালক শাহীনকে অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে বায়েজিদ লিংক রোডে নিয়ে যায় তারা। নির্জন সড়কে রাতের আঁধারে শাহীনকে মারধর করে ফেলে দিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে যায়। গত ১ অক্টোবর এই ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তভার পায় সিআইডি।

সিআইডির চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ বলেন, ‘তদন্তে নেমে আমরা জানতে পারি, চালক শাহীনের মোবাইল ফোনটিও তারা নিয়ে গেছে। এই মোবাইলের মাধ্যমে তারা গাড়ির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং গাড়িটি ফেরত দেওয়ার জন্য দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একে একে ঘটনায় জড়িত চারজনসহ চক্রের মোট ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছি। কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এলাকার আহছানিয়া পাড়া থেকে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়।

সিআইডির চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিদর্শক ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, ‘এ ঘটনায় মূলহোতা মহিউদ্দিনকে চুয়াডাঙ্গা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ছিনতাইয়ের পর সে পালিয়ে চুয়াডাঙ্গায় চলে গিয়েছিল। তার তথ্যের ভিত্তিতে বাকি পাঁচজনকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিজামউদ্দিন ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকারী। শাহিন রেজা ছাড়া বাকি সবাই পেশাদার ছিনতাইকারী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, প্রাইভেট কার ও সিএনজি অটোরিকশাকে টার্গেট করে তারা। যাত্রীবেশে সেখানে উঠে চালককে জিম্মি করে সেটা নিয়ে যায়। পরে ফেরত দেওয়ার জন্য বিকাশের মাধ্যমে টাকা আদায় করে।’