বিরোধ না হয় পারিবারিক, কী দোষ ছিল শিশুটির

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২০     আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

মাগুরা প্রতিনিধি

মাহিদ হোসেন

মাহিদ হোসেন

মাগুরায় পারিবারিক বিরোধের জেরে মাহিদ হোসেন (৭) নামের এক শিশুকে তালের ডোঙ্গার (এক ধরনের নৌকা) সঙ্গে হাত বেঁধে নদীতে ডুবিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর এক আসামির তথ্য অনুযায়ী গতকাল রোববার সদর উপজেলার বারাশিয়ার নবগঙ্গা নদী থেকে ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা। মাহিদ বারাশিয়া গ্রামের মুজিবুর রহমান মোল্লার ছেলে। এ ঘটনায় মুজিবুরের চাচাতো ভাই আসলাম মোল্লা ও তার ছেলে রোহানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা দায় স্বীকার করেছে।

নিহতের বাবা মুজিবুর রহমান জানান, তিন বছর আগে পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে আসলাম মোল্লার সঙ্গে বিরোধ হয় তার। এই বিরোধের প্রতিশোধ নিতে গত বুধবার মাহিদকে নিয়ে নবগঙ্গা নদীতে যায় আসলাম ও তার ছেলে রোহান। এরপর মাহিদকে একটি তালের ডোঙ্গার সঙ্গে হাত বেঁধে নদীতে ডুবিয়ে দেয় তারা। এদিকে, মাহিদকে না পেয়ে সদর থানায় জিডি করেন নিহতের বাবা। পরদিন মাহিদের নানা দুলাল হোসেনের কাছে মোবাইলে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানালে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে রোহানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সে হত্যার দায় স্বীকার করে। সেই সূত্র ধরে রোববার মাহিদের লাশ উদ্ধার করেন ডুবুরিরা।

পুলিশ জানিয়েছে, মাহিদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলা করেছেন নিহতের বাবা। এরই মধ্যে এ মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাগুরার পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ  বলেন, শিশুটি নিখোঁজের পর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে আসামিদের গ্রেপ্তার করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যানুযায়ী শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।