সীতাকুণ্ডে হোটেলে গণধর্ষণ মামলায় ৪ আসামির স্বীকারোক্তি

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২০     আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২০   

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিয়ের প্রতিশ্রতি দিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এক নারীকে গণধর্ষণের মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন চার আসামি। এরা হলেন- কিশোর অপরাধী মোহাম্মদ রিফাত, মোহাম্মদ ইমন ইসলাম, রনি ও জলসা হোটেলের ম্যানেজার নুর উদ্দিন। অপর আসামি নাজিম জবাবনবন্দি দেননি। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন নাহার রুমির আদালতে জবানবন্দি দেয় আসামিরা।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলার কোর্ট ইন্সপেক্টর সুব্রত ব্যানার্জী সমকালকে বলেন, গণধর্ষণ মামলার চার আসামি দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এক আসামি জবানবন্দি দেননি। পাঁচ আসামিকেই কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত শনিবার বিকেল থেকে রোববার গভীর রাতে পর্যন্ত সীতাকুণ্ডের জলসা আবাসিক হোটেলে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ ঘটনায় হোটেল ম্যানেজারসহ সাতজনকে আটক করলেও পরে দুই জনকে ছেড়ে পাঁচ জনকে আসামি করেন। সোমবার থানায় মামলা করার সময় ধর্ষণের শিকার নারী অজ্ঞান হয়ে পড়লে পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

আসামিরা জবানবন্দিতে জানান, ‘উপজেলার মধ্যম ভাটেরখীল গ্রামের কাসেমের ছেলে নয়নের সঙ্গে একমাস আগে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে পরিচয় হয় মিরসরাই উপজেলার ওই নারীর। এরপর থেকে মোবাইল ফোন ও ফেসবুকে নয়নের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ হতো। নয়ন গত শনিবার বিয়ে করার কথা বলে ওই তরুণীকে সীতাকুণ্ডে ডেকে নিয়ে আসেন। পরে পৌর সদরের জলসা আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। এরপর নয়ন তার বন্ধুদের হোটেলে ডেকে নিয়ে আসেন। তারপর সবাই ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। শনিবার রাত থেকে রোববার রাত পর্যন্ত চলে এই ঘটনা।’ পরে সোমবার সকালে ওই তরুণী কৌশলে তাদের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় গিয়ে বিষয়টি জানালে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে হোটেল জলসা ও পৗর সদরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করে।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সুমন বনিক বলেন, ধর্ষণের শিকার তরুণীর সঙ্গে তার স্বামীর ছাড়াছাড়ি হয়েছে। মাস খানেক আগে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে নয়নের পরিচয় হয়। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে তাকে সীতাকুণ্ডে এনে ধর্ষণ করে নয়ন ও তার বন্ধুরা।