ইউএনও আসলেই আলুর কেজি ৩০ টাকা, চলে গেলে ৫০

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২০   

হরিণাকুণ্ডু (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে আলু বিক্রি নিশ্চিত করতে বাজার নিয়ন্ত্রণে সারা দেশের মতো ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতেও চলছে প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। করা হচ্ছে জরিমানাও। কিন্ত কোন কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না আলুর বাজার।

স্থানীয়রা জানায়, শুক্র ও শনিবার উপজেলার রিশখালি, দখলপুর, পার্বতিপুর, উপজেলা মোড় দৈনিক বাজার, হরিনাকুণ্ডু, কুলবাড়িয়া, ভবানিপুরসহ বেশকিছু বাজারে অভিযান পরিচালনা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের অতিরিক্ত মূল্যে আলু বিক্রির অপরাধে অন্তত দশজন খুচরা ব্যবসায়িকে জরিমানা করা হয়েছে। তারপরও কমছে না আলুর দাম। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শেষ হলে ফের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

শনিবার উপজেলার হরিণাকুণ্ডু বাজারে গিয়ে দেখা যায়, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে। ইউএনও আসছেন এমন খবরে সঙ্গে সঙ্গেই ৫০ টাকা থেকে ৩০ টাকায় নেমে আসে প্রতি কেজি আলুর দাম। ইউএনও চলে গেলে ফের ৫০ টাকা প্রতি কেজি দরে শুরু হয় বিক্রি। এনিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডাও হচ্ছে।

সকালে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা মোড়ের দৈনিক বাজারে আহসান নামে এক ক্রেতাকে একজন খুচরা বিক্রেতার সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। জানতে চাইলে তিনি সমকালকে জানান, তিনি মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছেন দেশে পর্যাপ্ত আলুর মজুদ রয়েছে। সরকার আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে দামও নির্ধারণ করে দিয়েছেন খুচরা প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরে। কিন্ত ব্যবসায়ীরা ৫০ টাকার নিচে আলু বিক্রি করছেন না। সরকার নির্ধারিত দামে আলু চাইলে তারা বিক্রি করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে ওই খুচরা ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম বলেন, পাইকার মহাজনের কাছ থেকে ৪৬ টাকা প্রতি কেজি দরে দুই মন আলু কিনে এনে বাজারে বিক্রি করছি। নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তো আর ৩০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারি না।

হরিণাকুণ্ডু বাজারের পাইকারি আলু ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক মুন্সি জানান, তিনি আড়তদারের কাছ থেকে প্রতি কেজি আলু ৪৩ টাকা দরে কিনেছেন। এর সঙ্গে পরিবহন খরচও রয়েছে। তাই ৪৫-৪৬ টাকার নিচে বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হয়।

এবিষয়ে ইউএনও সৈয়দা নাফিস সুলতানা বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্যের বেশি যেন কোনক্রমেই ব্যবসায়ীরা আলু বিক্রি করতে না পারে সেজন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বেশি দামে বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীদের জরিমানাও করা হচ্ছে। এবিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।