হঠাৎ হঠাৎ কেঁপে ওঠে মারিয়া

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২০     আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২০   

এম কামরুজ্জামান, সাতক্ষীরা

নাসিমা খাতুনের কোলে শিশু মারিয়া- সমকাল

নাসিমা খাতুনের কোলে শিশু মারিয়া- সমকাল

'চার মাস বয়সের শিশু মারিয়ার মা-বাবা, ভাইবোনকে সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে। দুনিয়ায় মারিয়ার কেউ না থাকলেও আমি আছি। আমার দুই ছেলে, কোনো মেয়ে নেই। আমি মেয়ে পেয়েছি, আমি মারিয়াকে পেয়েছি। ওর মা যখন বেঁচে ছিল, তখন মায়ের মুখে মুখ দিয়ে আদর নিত। মুখে খামচে দিত। মারিয়া ঠিক সেভাবেই আমার মুখ খামচে দিচ্ছে, আমার মুখের ভেতর মুখ দিয়ে আদর নিচ্ছে। খিল খিল করে হাসছে। তবে ঘুমের ঘোরে সে হঠাৎ হঠাৎ কেঁপে ওঠে।'

শিশু মারিয়ার জিম্মাদার কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মেম্বার নাসিমা খাতুন শনিবার দুপুরে এভাবেই তার অনুভূতি ব্যক্ত করছিলেন। গত ১৫ অক্টোবর ভোরে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার খলসি গ্রামে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় চার মাসের শিশু মারিয়া।

নাসিমা খাতুন বলেন, নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ নিহত শাহিনুর রহমানের ভাই রায়হানুল ইসলামকে আটক করেছে। শাহিনুরের শোকাহত বৃদ্ধা মা বয়েসের ভারে ন্যুব্জ। এ অবস্থায় শিশুটিকে দেখভালের জন্য প্রশাসন আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে। আমি তাকে নিজের মেয়ের মতো মানুষ করতে চাই। পড়ালেখা শিখিয়ে সমাজের একজন প্রতিবাদী নারী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

তিনি বলেন, মারিয়া এখন অনেক ভালো আছে। ওর বুকের দুধ খাওয়া অভ্যাস। হঠাৎ করে কৌটার দুধ খেতে চাচ্ছিল না। তবে এখন খাচ্ছে। আমার স্বামী শরিফুল ইসলাম মারিয়াকে বাড়ি আনার সঙ্গে সঙ্গে বাজার থেকে দুধ, নতুন জামা-কাপড় থেকে শুরু করে যা যা প্রয়োজন সবই কিনে এনেছেন। এ ছাড়া জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল দুধসহ অন্যান্য সামগ্রী পাঠিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখছেন।

নাসিমা খাতুন বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় মারিয়ার একটু সর্দি ভাব ছিল। পরে ইউএনওর মাধ্যমে পাঠানো চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ানোয় সে এখন ভালো আছে। শনিবার সকালে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টুর স্ত্রী এসে একটি দোলনা দিয়ে গেছেন। শিশু মারিয়াকে দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ আমার বাড়িতে ভিড় করছে। সকালে মারিয়ার নানা-নানি এসে তাকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের অনুমতি না থাকায় আমি দিতে রাজি হইনি।

তিনি বলেন, এখানে তার কোনো সমস্যা নেই। আমার ছেলের বউরাও ওকে দেখাশোনা করছে, আদর করছে, দুধ খাওয়াচ্ছে। রাতে আমার কাছেই মারিয়া ঘুমাচ্ছে।