বাবা করলো অপহরণ মামলা, মেয়ে বলছে ‘স্বেচ্ছায় এসেছি’

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২০     আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২০   

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি

রাব্বির সঙ্গে লামিয়ার সেলফি -সংগৃহীত ছবি

রাব্বির সঙ্গে লামিয়ার সেলফি -সংগৃহীত ছবি

মেয়ের দাবি তিনি সাবালিকা, তার বাবা তাকে জোর পূর্বক অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাই বাড়ি থেকে পালিয়ে প্রেমিককে বিয়ে করে সংসার গড়েছেন। আর বাবার দাবি, তার মেয়ে নাবালিকা। বিয়ের প্রলোভনে তাকে অপহরণ করা হয়েছে। ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার শাওড়া গ্রামের।

এ ঘটনায় গৌরনদী মডেল থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের লাল মিয়া সরদারের মেয়ে লামিয়া আক্তারের সঙ্গে প্রতিবেশী মৃত আমীর হোসেন শেখের ছেলে রাব্বি শেখের (২৪) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১৪ আগস্ট লামিয়া আক্তার তার বাবার ঘর থেকে পালিয়ে প্রেমিক রাব্বির বাড়িতে ওঠে। তখন স্থানীয় পৌর কাউন্সিলরের সহয়তায় রাব্বির পরিবার লামিয়াকে তার বাবার বাড়িতে পৌছে দেয়। গত ১০ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লামিয়া আবারও বাড়ি থেকে এসে প্রেমিক রাব্বিকে নিয়ে পালিয়ে যান।

ঘটনার পর লামিয়ার বাবা লাল মিয়া সরদার বাদি হয়ে রাব্বি শেখ, তার মা রিনা বেগম (৪৮), বড় ভাই শাওন শেখ (২৮) ও ছোট ভাই রাকিব শেখকে (২০) আসামি করে গত ১১ অক্টোবর গৌরনদী মডেল থানায় অপহরণ মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর অজ্ঞাত স্থান থেকে লামিয়া ফেসবুকে নিজের বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করেন। সেখানে বলেন যে, তিনি সাবালিকা, তাকে কেউ অপহরণ করেনি এবং স্বেচ্ছায় এসে প্রেমিক রাব্বিকে বিয়ে করে সংসার পেতেছেন।

রাব্বির বড় ভাই শেখ শাওন জানান, ঘটনার দিন তিনি গৌরনদী পৌর মেয়র মো. হারিছুর রহমানের সঙ্গে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ছিলেন। এর আগে ঘটনার কিছুই জানতেন না। অথচ তাকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। একইভাবে তার নিরপরাধ মা ও ছোট ভাইকে আসামি করা হয়েছে। 

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, প্রেম ও বিয়ে যদি অপরাধ হয়, তবে সে অপরাধ রাব্বি একা করেছে। মামলা দিয়ে আমাদের কেন হয়রানি করা হচ্ছে?

মামলার বাদি লামিয়ার বাবা লাল মিয়া সরদার বলেন, 'আমার মেয়ে যা বলছে তা অপহরণকারীদের শেখানো কথা। ওদের ভয়ে লামিয়া শেখানো কথা বলছে।'