অফিসে ঢুকে আ’ লীগ নেতার হুমকি, নিরাপত্তা চেয়ে জিডি সরকারি কর্মকর্তার

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২০     আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২০   

পাবনা অফিস

অভিযুক্ত ফারুক হোসেন -সংগৃহীত ছবি

অভিযুক্ত ফারুক হোসেন -সংগৃহীত ছবি

পাবনার বেড়ায় পৌর মেয়র কর্তৃক ইউএনও লাঞ্ছিতের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার অফিসে ঢুকে জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের সুপারিনটেনডেন্ট মুশফিকুর রহমানকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। 

সোমবার বিকেলে পাবনা জেলা পরিষদ ভবনের নিচতলায় অবস্থিত হিসাবরক্ষণ অফিসে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সুপারিনটেনডেন্ট মুশফিকুর রহমান সন্ধ্যায় জীবনের নিরপত্তা চেয়ে পাবনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

মো. মুশফিকুর রহমান জানান, জেলা ফিনান্স ও অ্যাকাউন্টস অফিস থেকে সকল সরকারি কর্মকর্তার বেতন ও উন্নয়ন কাজের বিলের অর্থ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণাদি ছাড়া তা দেওয়া সম্ভব নয়। সম্প্রতি শহরের কৃষ্ণপুর এলাকার নাইস কন্ট্রাসটাকশনের মালিক ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব ফারুক হোসেন তার একটি ঠিকাদারী কাজের জামানাতের ৫টি চালান হারিয়ে ফেলেন। পরে তিনি ডুপ্লিকেট চালান তৈরি করে বিল দাখিল করেন। বিষয়টি আইন সম্মত না হওয়ায় হারিয়ে যাওয়া জামানাতের চালানের অনূকূলে থানায় সাধারণ ডায়েরিসহ বিল দাখিলের পরামর্শ দেওয়া হয়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে সোমবার বিকেলে ম্যানেজার আসাদকে সঙ্গে নিয়ে হিসাবরক্ষণ অফিসে এসে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে মারতে উদ্ধত হন। এ সময় অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছুটে এসে তাকে থামাতে গেলে তিনি হত্যার হুমকি দেন।

মুশফিকুর রহমান বলেন, এ ঘটনার পর আমিসহ অফিসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী নিরপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ বিষয়ে থানায় নিরপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসিম আহমেদ জানান, তদন্ত সাপেক্ষে হিসাবরক্ষণ অফিসের নিরপত্তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে, হামলা বা মারধরের কথা অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ঠিকাদার ও আওয়ামী লীগ ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা অহেতুক ঘুরানোয় কিছুটা কথা কাটাকাটি হয়েছে। লাঞ্ছিতের ঘটনা ঘটেনি।

পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, আমরা এ ঘটনায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।

পাবনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাসান শাহীন অভিযুক্ত ফারুক হোসেনের দলীয় পদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ১২ অক্টোবর পাবনার বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আনাম সিদ্দিকীকে লঞ্ছিত করেন পৌর মেয়র আব্দুল বাতেন। একের পর এক এমন ঘটনায় জেলায় সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।