পুলিশ যেখানে হন্যে হয়ে খুঁজেও তার সন্ধান পায়নি। সেখানে নিজেই থানায় গিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিলেন হত্যা মামলার এক আসামি। 

সোমবার সন্ধ্যায় সরাসরি ওসির কক্ষে গিয়ে হাজির হন চা বিক্রেতা গুলসান হত্যা মামলার প্রধান আসামি হারুন অর রশীদ। পরে তার দেওয়া তথ্য মোতাবেক হত্যায় জড়িত সন্দেহে আরও এক যুবককে মঙ্গলবার ভোরে আটক করেছে পুলিশ। 

ওই যুবকের নাম মাহমুদ ইসলাম কলি (৩৭)। তিনি রানীপুকুর ইউনিয়নের রানীপুকুর গ্রামের আক্তারুজ্জামানের ছেলে। থানায় আত্মসমর্পণ করা হারুন অর রশীদ উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের কাওছার মিয়ার ছেলে। 

পুলিশ জানায়, দুর্গাপুর গ্রামেই ভাড়া বাসায় থাকতেন মমিনপুর গ্রামের আবদুল হকের ছেলে গুলসান মিয়া। জায়গীর বাসস্ট্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরে চায়ের দোকানে চা বিক্রি করে আসছেন। এরই মাঝে তার স্ত্রী সেলিনার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন হারুন। এ নিয়ে সংসারে অশান্তি শুরু হয়। এরই মধ্যে গত ১২ অক্টোবর রাতে দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে নৃশংসভাবে খুন হন গুলসান। এ ঘটনায় স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক হারুনসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন নিহতের বাবা আবদুল হক। মামলার পর পুলিশ নিহতের স্ত্রী সেলিনাকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়। আদালতে তিনি গুলসান হত্যায় জড়িত বলে স্বীকারোক্তি দেন। হত্যায় প্রেমিক হারুনও জড়িত বলে তিনি আদালতকে জানান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিঠাপুকুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন সমকালকে বলেন, এটাকে ঠিক আত্মসমর্পণ বলা যাবে না। হারুনকে কৌশলে থানায় ডেকে এনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দোষ স্বীকার করে হারুন আদালতে জবানবন্দী দেবে বলে জানিয়েছে। অন্যথায় তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, হারুনের মোটরসাইকেলযোগে গিয়ে অন্য আরও একজন হত্যায় অংশ নেয়। সে সরাসরি গুলসানের গলায় হাসুয়া দিয়ে কোপ মারে। মোটরসাইকেল ও হাসুয়া উদ্ধারে অভিযান চলছে। অন্যদেরও গ্রেপ্তারে অভিযানে নেমেছে পুলিশ।