নওগাঁয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়ি বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে ঢলের পানিতে তৃতীয় দফায় বন্যায় ৫ হাজার ৭৮২ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান ও ১০৪ হেক্টর জমির শাকসবজি সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়েছে। এতে শুধু ফসলের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৭২ কোটি ৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এ ছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৩৭ হাজার ৬১১ জন কৃষক।

জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তৃতীয় দফায় বন্যায় জেলার আত্রাই উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এই উপজেলায় ২ হাজার ১৮০ হেক্টর জমির রোপা-আমন ধান বিনষ্ট হয়েছে। এরপরেই রয়েছে মান্দা উপজেলা। ওই উপজেলায় ১ হাজার ৪৪০ হেক্টর, রানীনগরে ৭৫৪ হেক্টর, সদরে ৭৩২ হেক্টর, বদলগাছীতে ৮০ হেক্টর, মহাদেবপুরে ৫০ হেক্টর, ধামইরহাটে ১২৩ হেক্টর, পত্নীতলায় ১০ হেক্টর, সাপাহারে ৩০০ হেক্টর, পোরশায় ৮৩ হেক্টর ও নিয়ামতপুর উপজেলায় ৩০ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এসব জমি থেকে এবার ১৭ হাজার ৬৩৮ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হতো। এই চালের আর্থিক মুল্য ৬৩ কোটি ৪৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা।

অপরদিকে জেলার রানীনগর উপজেলায় ৪ হেক্টর, বদলগাছি উপজেলায় ২৫ হেক্টর, পত্নীতলা উপজেলায় ৩০ হেক্টর, ধামইরহাট উপজেলায় ১৬ হেক্টর এবং মান্দা উপজেলায় ৩০ হেক্টর জমির শাকসবজি সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। এসব সবজির আর্থিক মূল্য ৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামসুল ওয়াদু জানান, জেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। সরকারিভাবে তাদের বিশেষ প্রণোদনা দেয়ার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিকল্প ফসল উৎপাদনে উৎসাহিত করা হবে।

বিষয় : নওগাঁ তৃতীয় দফা বন্যা রাজশাহী

মন্তব্য করুন