আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) এক নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বাবুপাড়া এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতের নাম রত্ন চাকমা (২১)। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) এমএন লারমা সমর্থিত পিসিপির কাচালং সরকারি কলেজের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

এ ঘটনার পর জেএসএসের এমএন লারমা ও সন্তু লারমা সমর্থিত দু'পক্ষের মধ্যে শতাধিক রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়। এ হত্যাকাণ্ডের জন্য সন্তু লারমা পক্ষকে দায়ী করেছে প্রতিপক্ষ। তবে তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বাবুপাড়া এলাকায় ওই বন্দুকযুদ্ধে রত্ন চাকমা নিহত হন। তার বাড়ি উপজেলার হিরাচরের দুড়ছড়ি এলাকায়। খবর পেয়ে বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।

এমএন লারমা সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রতিভাস চাকমা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, দুপুরে বাবুপাড়া এলাকার একটি দোকানে চা পান করছিলেন রত্ন চাকমা। এ সময় তালুকদার পাড়া থেকে দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন এসে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই রত্ন চাকমার মৃত্যু হয়। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জেএসএসের সন্তু লারমা পক্ষের লোকজন এ হামলা চালায় বলে প্রতিভাস চাকমা অভিযোগ করেন।

জেএসএসের এমএন লারমা পক্ষের বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জোসি চাকমাও একই অভিযোগ করে ঘটনার নিন্দা ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান।

তবে জেএসএসের সন্তু লারমা পক্ষের বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব কান্তি চাকমা দ্বীপ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের দলে কোনো বন্দুকধারী সন্ত্রাসী নেই। এমএন লারমা পক্ষের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরেই রত্ন চাকমা নিহত হয়েছেন। তিনিও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান।

বাঘাইছড়ি থানার ওসি মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বাবুপাড়া এলাকায় আঞ্চলিক দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নিহত হয়েছেন।