ক্রাচে ভর দিয়ে এসে ট্রেনের নিচে পেতে দিলেন মাথা

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২০     আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২০   

রাজশাহী ব্যুরো

রেললাইনের পাশে মৃতদেহ। পাশে তার ক্রাচ- সমকাল

রেললাইনের পাশে মৃতদেহ। পাশে তার ক্রাচ- সমকাল

দখলদাররা পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দিয়েছিল, সেই দুঃখ সইতে না পেরে রাজশাহীতে এসে ট্রেনের নিচে মাথা দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক ব্যক্তি।

বুধবার সকালে নগরীর বিলশিমলা এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে ইমরুল হাসান (৪০) নামের এই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। নিহত ইমরুলের জামার পকেটে একটি সুইসাইড নোটে আত্মহত্যার কারণ লিখে গেছেন।

ইমরুল হাসানের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার দরবারপুর এলাকায়। তার বাবার নাম ফিটু মিয়া। তিনি চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে এসেছিলেন।

রাজশাহী রেলওয়ে থানার ওসি কামাল শেখ জানান, ইমরুলের পকেটে পাওয়া চিঠি ও চিরকুটে দেনা-পাওনার হিসাব ও কারা তাকে মারধর করে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে, সেই বিবরণ লিখে গেছেন। চিরকুট দুটি তিনি ১০ অক্টোবর লিখেছেন। আর চিঠিতে কোনো তারিখ দেননি।

চিঠিতে ইমরুল লিখেছেন, ‘জালাল, কালাম ও তাদের ছেলে রানা জমি দখল করতে এসে আমার হাত ও পা ভেঙেছে। এই কষ্টে আমি জ্বলেপুড়ে যাচ্ছিলাম। আমার হাত ও পা ভেঙে বাড়ির সামনের রাস্তা দুইবার বন্ধ করে দেয়।’

তিনি আরো লিখেছেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে আপনজন মা, বেটি (কন্যা) ও স্ত্রী।’ তিনি চিঠিতে স্ত্রীর দুটি ফোন নম্বর দিয়েছেন। এই দুটি নম্বরে ফোন করেই তার স্ত্রীকে খবর দিতে বলেছেন। চিঠি ও চিরকুট দুটির মূল কপি তার স্ত্রীকে এবং ফটোকপি পুলিশকে দিতে বলেছেন। তার কবর দিতে বলেছেন- গোমস্তাপুর উপজেলার ঘাটনগর গোরস্থানে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ইমরুল ক্রাচে ভর দিয়ে রেললাইনের পাশ ধরে হাঁটছিলেন। ওই সময় রাজশাহী থেকে রহনপুরগামী কমিউটার ট্রেনটি খুব কাছে চলে এলে ইমরুল রেললাইনে ট্রেনের নিচে মাথা পেতে দেন। এতে তার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা ফোন নম্বর নিয়ে ইমরুলের স্ত্রী আয়েশা বেগমের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, গত সোমবার চিকিৎসার জন্য তারা রাজশাহী এসেছেন। নগরীর তেরোখাদিয়া এলাকায় তার বোনের বাড়িতে ওঠেন। চা খেয়ে সকালে ইমরুল বোনের বাসা থেকে বের হয়ে যান। পরে তার মৃত্যু সংবাদ পান।

আয়েশা জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে জালাল ও কালাম সহযোগীদের নিয়ে তাদের জমি দখল করে নেয়। ইমরুল বাধা দিতে গেলে পিটিয়ে তার হাত ও পা ভেঙে দিয়েছে। এঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারের এক দিন পরই তারা জামিনে ছাড়া পেয়ে যান। তার স্বামীকে ক্রাচে ভর দিয়ে চলতে হতো। এটা তিনি মানতে পারছিলেন না।