পদ্মায় মিলল বিরল প্রজাতির ঘড়িয়াল কুমির

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২০   

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

ছবি: সমকাল

ছবি: সমকাল

রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির মিঠাপানির ঘড়িয়াল কুমির। বুধবার বিকেলে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে প্রায় বিপন্ন প্রজাতির এই প্রাণীটি বন বিভাগ উদ্ধার করে গাজীপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্কে সংরক্ষণের জন্য ঢাকা বন্য প্রাণী ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করেন।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, বুধবার রাজবাড়ীর পাংশা হাবাসপুর এলাকায় পদ্মা নদীতে সৌখিন মাছ শিকারি মো. বাদশা মিয়ার নেট দুয়াড়িতে ৪ ফিট ৮ ইঞ্চি লম্বা ঘড়িয়াল কুমিরটি ধরা পড়ে। গোত্রভুক্ত ঘড়িয়াল শ্রেণির মেছো কুমির এটা। এই প্রাণিটি বিভিন্ন স্থানে ঘট কুমির নামেও পরিচিত। প্রধান খাদ্য মাছ বলেই অনেকেই মেছো কুমির বলা থাকে। বাংলাদেশে পদ্মা, যমুনা ও ব্রক্ষপুত্র এবং এগুলোর শাখা নদীতে এক সময় এ ধরনের কুমির প্রচুর মিলত। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে বাংলাদেশে প্রজননক্ষম কোনো ঘড়িয়াল কুমির নেই বললেই চলে। ঘড়িয়াল মহাবিপন্ন প্রাণী যা বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ দ্বারা সংরক্ষিত।

সৌখিন মাছ শিকারী মো. বাদশা সরদার বলেন, বাড়ির পাশেই পদ্মা নদী। শখ করে নেট দিয়ে তিনটি দুয়াড়ি তৈরি করেছি। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার গোসলের সময় নেট দুয়াড়িটি উঠাতেই বড় মাছ মনে করে আনন্দে চিৎকার দিয়ে উঠি। পরে পানি থেকে উপরে এনে দুয়াড়ি খুলে দেখি কুমির। কুমিরটি দেখার জন্য অনেক মানুষ ভিড় করে। স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় কুমিরটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে দিয়ে দিই।

জেলা বন কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘড়িয়ালটি উদ্ধার করে সংরক্ষণের জন্য ঢাকা বন্য প্রাণী ইউনিটের কর্মকর্তা দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট আসেন। সংরক্ষণের জন্য তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এটি।

দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে ঘড়িয়ালটি নিতে আসা ঢাকা বন্য প্রাণী ইউনিটের পরির্দশক মো. আব্দুল্লাহ আস সাদিক বলেন, মহাবিপন্ন ঘড়িয়ালটি গাজিপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্কে সংরক্ষণ করা হবে। সাফারি পার্কে আরো তিনটি ঘড়িয়াল রয়েছে। এটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ওই তিনটির সঙ্গে রাখা হবে।