সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২০     আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২০   

পঞ্চগড় প্রতিনিধি ও শিবপুর (নরসিংদী) সংবাদদাতা

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় মাইক্রোবাস ও ট্রাক্টরের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর নিহত হন দু’জন। দুর্ঘটনার পর চলছে উদ্ধার তৎপরতা- সমকাল

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় মাইক্রোবাস ও ট্রাক্টরের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর নিহত হন দু’জন। দুর্ঘটনার পর চলছে উদ্ধার তৎপরতা- সমকাল

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও নরসিংদীর শিবপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন।শনিবার সন্ধ্যা ও রাতে এই দুই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে মা-ছেলেও রয়েছেন। 

পঞ্চগড়: পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় মাইক্রোবাস ও ট্রাক্টরের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের চালক স্বপন চন্দ্র রায় (২৩) ও যাত্রী সাবিনা ইয়াসমিন (৪০) নিহত হয়েছেন।

উপজেলার মাঝিপাড়া এলাকায় পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মাহাসড়কে শনিবার রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাবিনা ইয়াসমিনের স্বামী রবিউল ইসলামসহ আরও ৮ জন আহত হয়েছেন।

নিহত চালক স্বপন চন্দ্র রায় তেঁতুলিয়া উপজেলা সদরের বুড়িমুটকি এলাকার তুলেশ চন্দ রায়ের ছেলে। সাবিনা ইয়াসমিনের বাড়ি তেঁতুলিয়ার কলোনিপাড়া এলাকায়।

দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন- তেঁতুলিয়া কলোনিপাড়া এলাকার রবিউল ইসলাম (৪৬), তার ছেলে ফয়সাল (১৭), মেয়ে রওনক জাহান (১২), বাবা ফুল মোহাম্মদ (৭৬), মা রোকেয়া বেগম (৭০), মোমিনপাড়া এলাকার মোকছেদ আলীর স্ত্রী তহমিনা বেগম (৫০), মেয়ে মিথিলা আক্তার (১৫) ও একই এলাকার আকতারুজ্জামানের স্ত্রী রেনু বেগম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, পঞ্চগড়ের ডুডুমারি এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় দাওয়াত খেয়ে মাইক্রোবাসে পরিবারের ১০ সদস্য নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন রবিউল ইসলাম। মাঝিপাড়া এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পাথরবাহী ট্রাক্টরের সাথে তাদের মাইক্রোবাসের মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে মারা যান রবিউলের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ও মাইক্রোবাসের চালক স্বপন। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রাকিবুল হাসান বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া চারজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

শিবপুর: নরসিংদীর শিবপুরে ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী মা-ছেলে নিহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বড়ইতলা নামক স্থানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- ঝিনাইদহের কুলবাড়িয়া এলাকার মিজানুর রহমানের স্ত্রী নাজমা আক্তার (৪০) ও তাদের ছেলে সিয়াম হোসেন (৪)। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন মিজানুর রহমান।

ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম জানান, মিজানুর রহমান পেশায় বিআরটিসির বাস চালক। তিনি ঝিনাইদহের বাসিন্দা। মিজানুর রহমান তার শ্বশুরবাড়ি লক্ষীপুরের রামগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেলে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে তার কর্মস্থলের উদ্দেশে  যাচ্ছিলেন। মহাসড়কের বড়ইতলা পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকামুখী ট্রাক আরেকটি গাড়িকে পার হয়ে যাওয়ার সময় তাদেরকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নাজমা আক্তার ও তাদের ছেলে সিয়ামের মৃত্যু হয়।

তিনি জানান, খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। অভিযুক্ত ট্রাকের চালক ও হেলপারকে ট্রাকসহ আটক করেছে পুলিশ।