সাভারে ছুরিকাঘাতে যুবককে হত্যা

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২০   

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার ও রাবি প্রতিনিধি

সাভারে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার সকালে সাভার পৌর এলাকার সিআরপি সড়কের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ।

নিহত মোস্তাফিজুর রহমান (৩০) রাজশাহীর দুর্গাপুর থানার নওয়াপাড়া গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সাবেক ছাত্র। বর্তমানে তিনি সাভারের ডগরমোড়া এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থেকে বিরুলিয়ার কমলাপুর এলাকার গ্লোরিয়াস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছিলেন।

পুলিশ জানায়, সড়কের পাশে ওই যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে ৯৯৯-এ ফোন করে জানায় পথচারীরা। পরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানো হয়ে। নিহতের বুকে গভীর ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে।

গ্লোরিয়াস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জুবায়ের হাসান বলেন, মোস্তাফিজুর এক বছর ধরে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি জেনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহত মোস্তাফিজুর রহমানের বন্ধু ও সহকর্মী আজিজ হোসেন জানান, মুস্তাফিজুর রহমান গত বুধবার ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি রাজশাহী যান। শনিবার ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগদানের কথা ছিল। এ কারণে গ্রামের বাড়ি থেকে তিনি সাভার আসেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই স্থানে প্রায়ই ছিনতাই হয়। তাদের ধারণা, দূরপাল্লার বাস থেকে নামার পর ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন মোস্তাফিজুর। পরে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর কেড়ে নেওয়া হয় সঙ্গে থাকা টাকাসহ মূল্যবান মালপত্র।

সাভার মডেল থানার ওসি এএফএম সায়েদ বলেন, ৯৯৯ থেকে খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতের বুকে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এ ঘটনায় সাভার থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

হত্যায় জড়িতদের বিচার দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন: মোস্তাফিজুরের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা তিনটি দাবি জানান। তাদের দাবিগুলো হলো- আগামী ২৪ ঘণ্টা মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা, অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি ও পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

এ সময় বক্তব্য দেন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মো. সোহেল, আশরাফুল ইসলাম, মেহেদী হাসান, এমডি ইসানুর, এসআই জামান প্রমুখ। বক্তারা জানান, মোস্তাফিজুর রাবির ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন।

দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও নবাব আব্দুল লতিফ হলের প্রাধ্যক্ষ ড. একরাম হোসেন জানান, শনিবার দুপুরের আগেই ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। এদিন সন্ধ্যার দিকে মরদেহ নিয়ে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দেন নিকটাত্মীয় ও বন্ধুরা।

বিষয় : সাভার হত্যা