রায়হানের মায়ের অনশন ভাঙালেন মেয়র আরিফ

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২০     আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২০   

সিলেট ব্যুরো

বন্দরবাজারের পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অনশনে বসেছেন রায়হানের মা ও তার স্বজনরা- সমকাল

বন্দরবাজারের পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অনশনে বসেছেন রায়হানের মা ও তার স্বজনরা- সমকাল

ছেলে হত্যা বিচার দাবিতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অবস্থানরত রায়হানের মায়ের আমরণ অনশন ভাঙালেন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

অনশন শুরুর প্রায় ৫ ঘন্টা পর রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মেয়র আরিফ জুস খাইয়ে সালমা বেগমসহ স্বজনদের অনশন ভাঙান।

এর আগে সকাল ১১টা থেকে রায়হানের মা আমরণ অনশন শুরু করেন। অনশনে রায়হানের মায়ের সঙ্গে তার ভাই-বোন, মামা, খালাসহ আত্মীয় স্বজনরা ছিলেন।

বিকেলে অনশনরতরা ফাঁড়ির সামনে বিক্ষোভও করেন। মেয়র আরিফ তাদেরকে শান্ত করে রায়হান হত্যার বিচারের স্বার্থে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরে তিনি অনশন ভাঙান।

গত ১১ অক্টোবর ভোরে নিহত হন সিলেট নগরের আখালিয়ার রায়হান আহমদ (৩৩)। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে প্রচার করা হয়, ছিনতাইয়ের দায়ে নগরের কাষ্টঘর এলাকায় গণপিটুনিতে নিহত হন রায়হান। তবে বিকেলে পরিবারের বক্তব্য পাওয়ার পর ঘটনা মোড় নিতে থাকে অন্যদিকে। পরিবার দাবি করে, সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দর বাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে প্রাণ হারান রায়হান।

ওই রাতেই পুলিশকে অভিযুক্ত করে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় হেফাজতে মৃত্যু আইনে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। পরদিন রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (উত্তর) শাহরিয়ার আল মামুনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সিলেট মহানগর পুলিশ।

এরপর পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে রায়হানকে ফাঁড়িতে এনে নির্যাতনের প্রাথমিক প্রমাণ পায় কমিটি। এই তদন্ত কমিটির সুপারিশে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূইয়া, কনস্টেবল হারুন রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাসকে সাময়িক বরখাস্ত এবং এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়।

এই ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনমুখর হয়ে পড়ে সিলেট। সিলেট মহানগর পুলিশকে নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এই সমালোচনার মুখে মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার গোলাম কিবরিয়াকে বদলি করা হয়। আর এই ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর হোসেন ভূইয়া ১২ অক্টোবর থেকে পলাতক রয়েছেন।

তদন্তে নেমে পুলিশ হেফাজতে রায়হান উদ্দিনের মৃত্যু ও নির্যাতনের প্রাথমিক সত্যতাও পায় তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটি জানতে পারে ১১ অক্টোবর ভোররাত ৩টার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সুস্থ অবস্থায় রায়হান আহমদকে আনা হয় বন্দরবাজার ফাঁড়িতে। সেখানে ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়ার নেতৃত্বেই তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রায়হানকে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সকাল ৭টার দিকে মারা যান তিনি।

রায়হান নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়া এলাকার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্টেডিয়াম মার্কেট এলাকায় এক চিকিৎসকের চেম্বারে সহকারি হিসেবে কাজ করতেন।