সিলেটে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু

আকবরকে এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২০     আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট ব্যুরো

সিলেটে পুলিশ হেফাজতে রায়হান আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে ১৫ দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি দেশে আছেন নাকি বিদেশ পালিয়েছেন, তাও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না সংশ্নিষ্টরা।

ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও আকবরকে শিগগির গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছেন। নিহত রায়হানের মা সালমা বেগমসহ সিলেটের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো আকবরকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে সভা-সমাবেশ করে আসছে। সর্বশেষ গত রোববার সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) বন্দরবাজার ফাঁড়ির সামনে অনশন করেন সালমা বেগম। এদিকে, আকবরকে পালাতে সহায়তা ও তিনি কীভাবে কার সাহায্যে পালিয়েছেন, সে বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শেষ করেছে। আজকালের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। 'এসআই আকবর কি দেশ ছেড়েছেন' শিরোনামে সমকালে একটি সংবাদ প্রকাশের পর ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

গত ১১ অক্টোবর রাতে নগরীর আখালিয়ার নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে রায়হান আহমদকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন ও তার মৃত্যুর পর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন গা-ঢাকা দেন। ১৩ অক্টোবর বিকেলে তিনি এসএমপির তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হওয়ার পরই ওইদিন রাত থেকে গায়েব হয়ে যান। গা-ঢাকা দেওয়ার আগে নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকার কালীবাড়ি রাস্তার মুখে অবস্থিত ফুলকলি নামের একটি মিষ্টির দোকানে তাকে দেখা গেছে। এর আগে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি ছাড়ার আগে সেখানকার সিসিটিভির হার্ডডিস্কও পরিবর্তন করেন আকবর। তাকে গ্রেপ্তারে তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে অভিযান চালানো হয়েছে। আটক করা হয়েছে তার ভাইকে। কিন্তু ঘটনার ১৫ দিন পরও আকবরের অবস্থান জানা যায়নি।

সালমা বেগম সমকালকে বলেন, আকবরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ প্রমাণ করুক তারা নিরপেক্ষ। কীভাবে তাদের হেফাজত থেকে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়, তা বোধগম্য হচ্ছে না।

এসএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) আশরাফ উল্ল্যাহ তাহের জানান, আকবর সম্পর্কে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। তাকে অবশ্যই গ্রেপ্তার করা হবে।

এদিকে, আকবরের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রতিবেদনের আলোকে পুলিশের এআইজি মো. আইয়ুবকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটি আজকালের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। তবে কমিটির সদস্য এসএমপির উপপুলিশ কমিশনার মুনাদির চৌধুরী এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননি।