গিয়াস উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে চাঁদার জন্য গুলি করে পঙ্গু করার অভিযোগে মঙ্গলবার ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসানের আদালতে মামলা হয়েছে। মামলায় আসামি করা হয়েছে ছাগলনাইয়া থানার তৎকালীন ওসি এমএম মুর্শেদসহ ১৩ জনকে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারকে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্য আসামিরা হলেন- এসআই শহিদুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, এএসআই ফিরোজ আলম, মাহবুল আলম সরকার, এসআই খোরশেদ আলম, কনস্টেবল সুকান্ত বড়ুয়া, নুরুল আমিন, মাঈন উদ্দিন, নুরুল আমিন, সিরাজুল ইসলাম এবং পুলিশের দুই সোর্স আবুল হাসেম ও আবুল খায়ের ছোটন।

মামলায় বাদী গিয়াস উদ্দিন দুলাল অভিযোগ করেছেন, তিনি পিকআপ চালক। গত বছরের ১৭ জানুয়ারি দুপুরে ফেনী সদরের কাজীরবাগে মাটি বহন করা সময় মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে থানার সোর্স আবুল হাসেম, আবুল খায়েরসহ পুলিশ সদস্যরা তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু তার পক্ষে এত টাকা চাঁদা দেওয়া সম্ভব ছিল না। পুলিশ বিকেলে একটি মাইক্রোবাসে তুলে তাকে ছাগলনাইয়ার পাঠানগর এলাকায় ব্রাদার্স ব্রিকফিল্ডে নিয়ে যায়। সেখানে ওসি এমএম মুর্শেদ এসে চোখ বেঁধে ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে খবর পেয়ে দুলালের মা ও বোন এক লাখ দেওয়ার কথা বললেও ওসি রাজি না হয়ে আবার চোখ বেঁধে মাইক্রোবাসে উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামের রাস্তার মাথায় একটি নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেন। ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্য সুকান্ত বড়ুয়ার কাছ থেকে শটগান নিয়ে ওসি নিজে তার ডান পায়ে তিন রাউন্ড গুলি করেন।

গিয়াস উদ্দিনের অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফের তার বিরুদ্ধে ১৪০০ পিস ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মিথ্যা মামলা করে কারাগারে পাঠায়। এখন তিনি পঙ্গু জীবনযাপন করছেন।