শিশু মাহাদী হাসানের বয়স ৭ মাস। এই বয়সে কোন অপরাধ না করেও ১৫ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে তাকে। অবশেষে সাত মাসের শিশু মাহাদী বাবা মাসুম মিয়া ও মা শাহনাজ আক্তারের সঙ্গে মুক্তি পেয়েছে। গত ১৫ দিন ধরে তারা কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। 

আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার সকালে বাবা-মায়ের সঙ্গে মুক্তি পায় মাহাদী। আর এই মুক্তির মাধ্যমে ১৫ দিন পর খোলা আকাশ আর মুক্ত বাতাসের দেখা পেলো সে।

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহজাহান জানান, আদালতের আদেশে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। 

কারাগারের সামনে গিয়ে দেখা যায়, কারাফটকে ছেলের বউ, ছেলে ও নাতির মুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন রফিকুল ইসলাম। মুক্তির পর নাতিকে কাছে পেয়ে কাঁধে তুলে নেন দাদা রফিকুল। দাদার কাঁধে উঠে বেশ খুশি শিশু মাহাদীও। দাদা-নাতির এমন আনন্দময় মুহূর্তের দৃশ্য কারা ফটকের সামনে অপেক্ষমান সকলেরই নজর কাড়ে।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরীর মনোহরপুর এলাকায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন আয়েশা আক্তার রীমা নামের এক গৃহবধূ। তবে রীমার পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করেছে স্বামীর বাড়ির লোকজন। এ ঘটনায় স্বামী নাসির উদ্দিন, ভাসুর মো.মাসুম মিয়া ও ভাসুরের স্ত্রী শাহনাজ আক্তারকে আসামি করে একটি হত্যামামলা দায়ের করেন রীমার বাবা।

ওই মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো.তাজুল ইসলাম জানান, গত ১৯ অক্টোবর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন শাহনাজ আক্তার। এ সময় আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। এর মধ্যে শাহনাজকে দুই দিনের রিমান্ডেও নেওয়া হয়। সঙ্গে শিশুটিও ছিলো। এ মামলায় শিশুটির বাবা মাসুমও কারাগারে ছিলেন। বুধবার কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আতাব উল্লাহ শিশুটির মা শাহনাজ আক্তার ও তার স্বামী মো.মাসুম মিয়াকে জামিন ও শিশু মাহাদীকে মুক্তির আদেশ দেন।