চার দফা দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় জামালপুরের সাত উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘরবাড়ি ও ফসল হারিয়ে অনেকেই পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ অবস্থায় দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে সমকাল সুহৃদ সমাবেশ ও আল খায়ের ফাউন্ডেশন। বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী পেয়ে বানভাসি মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেওয়ানগঞ্জের চোকাইবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে উপজেলার ২৫০ বন্যার্ত ও দুস্থ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে- জনপ্রতি ১৫ কেজি করে চাল, দুই লিটার তেল, এক কেজি চিনি, এক কেজি আটা, এক কেজি লবণ, এক কেজি আলু ও এক কেজি ডাল বিতরণ।
ত্রাণ হাতে পেয়ে চোকাইবাড়ি গ্রামের বর্গাচাষি আলতাফুর জানান, এবারের বন্যায় তার দুই বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। ফলে তার ঘরে না আছে খাবার, না আছে টাকা। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন পার করছেন। একই এলাকার ফুলজান বেওয়া, রমিজ উদ্দিন, কামাল মিয়া, নূরজাহান বেগমসহ অনেকেই ত্রাণ পেয়েছেন। তাদের সবার অবস্থাও প্রায় একই রকম। বন্যা ও করোনার কারণে তারা ছিলেন কর্মহীন।
ত্রাণ বিতরণের আগে চোকাইবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ইউপি চেয়ারম্যান মো. সেলিম খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বানভাসি মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য দেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান, আল খায়ের ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর তারেক মাহমুদ সজিব, সমকালের সহকারী সম্পাদক ও সমকাল সুহৃদ সমাবেশের বিভাগীয় সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম আবেদ, সমকাল ও চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের জামালপুর জেলা প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন মিন্টু।
উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান হোসেন ত্রাণদাতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এবারের কয়েক দফা দীর্ঘস্থায়ী ভয়াবহ বন্যায় দেওয়ানগঞ্জের অনেক মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বেসরকারি দাতা সংস্থার মধ্যে সমকাল ও আল খায়ের ফাউন্ডেশনই সবচেয়ে বেশি ত্রাণসামগ্রী দিয়েছে, যা পেয়ে দুর্গত এলাকার মানুষ অনেক উপকৃত হয়েছেন।
দেওয়ানগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সমকাল ও আল খায়ের ফাউন্ডেশনের কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করে তাদের হাতে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়ায় অসহায় বানভাসি মানুষ আনন্দিত।
সমকালের সহকারী সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম আবেদ ও আল খায়ের ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর তারেক মাহমুদ সজিব জানান, দুটি প্রতিষ্ঠানই আর্তমানবতার সেবায় সচেষ্ট রয়েছে। অসহায় মানুষের পাশে থাকতে পেরে তারা আনন্দিত। এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।