সিসিটিভিতেও থামছে না জালিয়াতি কারবার

চট্টগ্রাম এলএ অফিস

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

আহমেদ কুতুব, চট্টগ্রাম

ভূমি অধিগ্রহণের সরকারি অর্থ আত্মসাতে নিত্যনতুন জালিয়াতি কারসাজি অব্যাহত রয়েছে চট্টগ্রাম এলএ অফিসে। সিসিটিভির আওতায় এনেও ঠেকানো যাচ্ছে না প্রকৃত ভূমি মালিকদের সঙ্গে জালিয়াত চক্রের প্রতারণা। 'এলএ অফিসের কর্মচারী পরিচয়' দিয়েই চলছে এ অপকর্ম। চট্টগ্রাম আদালতে চলমান দুটি মামলায় উঠে এসেছে ভূমি অধিগ্রহণের সরকারি অর্থ আত্মসাতে এমন জালিয়াতির ঘটনা।
চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই ইমাম হোসেন বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের অর্থ আত্মসাতের এক মামলার তদন্তে চার আসামির বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণা করার প্রমাণ পেয়ে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছি। আসামিরা কৌশলে এক ব্যক্তির অর্থ ব্যাংক থেকে তুলে লোপাট করেছেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) চট্টগ্রাম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আকতার কবির চৌধুরী বলেন, ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়ম ও দুর্নীতি ঘটেই চলছে। দুদক ও সরকারকে এ বিষয়ে সব সময় কঠোর নজরদারি করা প্রয়োজন।
ভুয়া মালিক সেজে ৭২ লাখ টাকা আত্মসাৎ : জাল দলিল ও নামজারি খতিয়ান সৃষ্টি করে জমির ভুয়া মালিক সেজে অন্যের জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের ৭২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জালিয়াত চক্রের চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা হয়েছে। ১১ নভেম্বর চট্টগ্রাম পঞ্চম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার জাহানের আদালতে এ মামলা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলো- নগরীর দক্ষিণ মধ্য হালিশহরের ওমর ফারুক, উত্তর পতেঙ্গার ধুমপাড়া এলাকার মৃত আবদুল কাদেরের ছেলে নাছির, মধ্য পতেঙ্গার চরপাড়া রোডের বাসিন্দা আবদুল নুর ও মধ্য পতেঙ্গার ডেইলপাড়া এলাকার মো. ছাবের। দক্ষিণ মধ্য হালিশহরের দিদারুল হুদা চৌধুরী ক্ষতিপূরণের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এ মামলা করেছেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা যোগসাজশে জাল দলিল ও নামজারি খতিয়ান বানিয়ে এলএ শাখায় ভুয়া মালিক সেজে বাদী দিদারুল ও পরিবারের অন্যদের মালিকানায় থাকা ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের ৭২ লাখ টাকা সুকৌশলে তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, এলএ শাখায় অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে ২০১৪ সালে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হলেও বন্ধ হয়নি অনিয়ম ও দুর্নীতি।