নাব্যতা সঙ্কটের কারণে বৃহস্পতিবার পদ্মা সেতুর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের সবচেয়ে কাছের ১ ও ২ নম্বর খুঁটির ওপর ৩৮তম স্প্যান বসানো সম্ভব হয়নি। নির্ধারিত খুঁটির কাছে ক্রেনে করে স্প্যান নিয়ে যাওয়ার জন্য এখন দুই খুঁটির মাঝখানে ড্রেজিং করে ক্যানেল তৈরি করা হচ্ছে।

ক্যানেল তৈরি হয়ে গেলে শনিবার ৩৮তম স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হবে বলে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। আর এই স্প্যানটি বসানো হলে সেতুর দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ হাজার ৭০০ কিলোমিটার দৃশ্যমান হবে। 

এর আগে গত ১২ নভেম্বর পদ্মা সেতুর ৯ ও ১০ নম্বর পিলারের উপর বসানো হয়েছিল ৩৭তম স্প্যান। আগামী শনিবার স্প্যান বসানো হলে সেতুর আর মাত্র তিনটি স্প্যান বাকি থাকবে। 

৩৮তম স্প্যান বসানোর বিষয়ে জানতে চাইলে পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের  বলেন, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে শনিবারই বসবে স্প্যান, না হলে একদিন পিছিয়ে ২২ তারিখেও বসতে পারে। অর্থাৎ চলতি নভেম্বর মাসের ২১ এবং ২২ তারিখ দুই দিনের মধ্যেই স্প্যানটি বসবে। এই মাসের শেষের দিকে ২৭ কিংবা ২৮ তারিখের দিকে বসতে পারে ৩৯তম স্প্যান এবং বাকি সবগুলো স্প্যান ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই আমরা বসিয়ে ফেলবো। 

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মূল সেতুর কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৯০.৫০ ভাগ। আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৮০.০৩ ভাগ। নদী শাসনের অগ্রগতি হয়েছে ৭৫ ভাগ। সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এরিয়ার কাজের অগ্রগতি শতভাগ ভাগ হয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১২ ডিসেম্বরে শুরু হয়েছিল পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদী শাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো করপোরেশন।