ব্রিধান-৯০

আগাম আমন চাষে নতুন সম্ভাবনা

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা ব্যুরো

নতুন জাতের ব্রিধান-৯০-এর বাম্পার ফলনে খুশি খুলনার গুপ্তমারি গ্রামের কৃষক রণজিত রায়	- সমকাল

নতুন জাতের ব্রিধান-৯০-এর বাম্পার ফলনে খুশি খুলনার গুপ্তমারি গ্রামের কৃষক রণজিত রায় - সমকাল

খুলনার উপকূলীয় এলাকায় চলতি আমন মৌসুমে প্রথমবারের মতো চাষ হয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত ব্রিধান-৯০। মাত্র তিন কাঠা জমিতে চাষ করা এই উচ্চফলনশীল আধুনিক জাতের সুগন্ধি ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। চিকন দানার এই ধানের হেক্টরপ্রতি উৎপাদন পাঁচ টন হওয়ায় তা এলাকার কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, একই সময় রোপণ করে মাত্র ১১৮ দিনে আশানুরূপ ফলন পাওয়ায় এ জাতটি নিয়ে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মাঝারি উঁচু বা উঁচু জমিতে এ ধান চাষ করে মধ্য কার্তিকেই কাটা যাবে। এরপর সেখানে রবিশস্য চাষ বিশেষ করে সরষে, আলু ও শাকসবজি করা সম্ভব হবে।
কৃষকরা আরও জানান, সাধারণত এই এলাকায় স্থানীয় জাতের আমন ধান দেরিতে পাকায় নতুন কোনো ফসল চাষ করা যায় না। ফলে এলাকার বেশিরভাগ জমি একফসলি এবং তা বছরের সাত থেকে আট মাসই ফাঁকা পড়ে থাকে। ব্রিধান-৯০ একদিকে মাত্র চার মাসেই পাকে এবং ফলনও বেশি। স্থানীয় রাণী স্যালট, জটাই, হরকোচ, ভাটেল ধানের হেক্টর প্রতি সর্বোচ্চ উৎপাদন সাড়ে তিন থেকে চার টন। সেখানে ব্রিধানের উৎপাদন পাঁচ টন পর্যন্ত।
বৃহত্তর খুলনা উপকূলীয় এলাকায় মাঠ পর্যায়ে এ ধানের চাষ হওয়ার খবর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কাছেও নেই। এমনকি বটিয়াঘাটার দাউনিয়াফাঁদ গ্রামে চাষ হওয়া ব্রিধান-৯০ সম্পর্কেও খুব কম লোকে জানে। গুপ্তমারি গ্রামের কৃষক রণজিত রায় এবার প্রথম এ ধানের চাষ করেন। তাকে ব্রি থেকে দুই কেজি বীজ সংগ্রহ করে দেন একজন শৌখিন ধান চাষি। ধান পাকার পর ফলন দেখে অনেকরই এই ধান চাষে আগ্রহ বেড়েছে। রণজিত রায় তার তিন কাঠা বর্গা জমিতে তিন মণ ফলন পাওয়ায় খুবই খুশি। তিনি বলেন, 'এই সামান্য জমিতে এত ফলন পাব ভাবতেই পারিনি। এলাকার অনেকেই বীজ চেয়েছেন।'
দাউনিয়াফাঁদ গ্রামের কৃষাণি আরতি রায় বলেন, এমন সুন্দর ছোট দানার ধানের এত ভালো ফলন আগে কখনও দেখিনি। তাছাড়া আমরা যখন আমন ধান কাটি তখন পৌষ মাস। তার ২ মাস আগে এখন এ ধান পেকেছে এটাও বড় ব্যাপার। তিনি বলেন, আমি এর নাম দিয়েছি 'মুসরি দানা'। এলাকার কেউ বলছেন বেগুন বিচি। আবার কেউ নাম দিয়েছেন স্বর্ণালি ভোগ।
খুলনার শৌখিন ধান চাষি এসএম আতিয়ার রহমান সমকালকে বলেন, শখ হিসেবে এর আগেও বিভিন্ন জাতের ধান বীজ সংগ্রহ করেছি। ২০১৯ সালে এই জাতটি মাঠ পর্যায়ে চাষে ছাড়পত্র দেয় বীজ প্রত্যয়ন বোর্ড। চলতি বছর বীজ সংগ্রহ করে কৃষককে দিয়েছি। প্রথমবার পরীক্ষামূলক ব্রিধান-৯০ জাতের উৎপাদন দেখে কৃষকরা অনেক খুশি। কেবল খুলনা উপকূলীয় এলাকাতেই নয়, সারাদেশে আগাম আমন ধান হিসেবে ব্রিধান-৯০ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাবে।

বিষয় : ব্রিধান-৯০