লাল পতাকা টানিয়ে জলাশয় ভরাট

কুমিল্লায় প্রশাসনের অভিযানেও নির্বিকার মাটি ব্যবসায়ীরা

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লা সংবাদদাতা

কুমিল্লার সদর উপজেলায় গোমতী বাঁধ কেটে জলাশয় ভরাট করতে স্থাপন করা হয়েছে পাইপ	 সমকাল

কুমিল্লার সদর উপজেলায় গোমতী বাঁধ কেটে জলাশয় ভরাট করতে স্থাপন করা হয়েছে পাইপ সমকাল

প্রায়ই অভিযান চালায় প্রশাসন। পরিবেশ অধিদপ্তরও নানা স্থানে টানিয়ে রেখেছে সতর্কীকরণ গণবিজ্ঞপ্তি সংবলিত সাইনবোর্ড। তারপরও ঠেকানো যাচ্ছে না মাটি ব্যবসায়ীদের। দুর্ঘটনা ঠেকাতে লাল পতাকা টানিয়ে প্রকাশ্যেই মাটি ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
এই চিত্র কুমিল্লার শহরতলির গোমতী বাঁধের শুভপুর-চানপুর এলাকার। গোমতী থেকে অবৈধভাবে মাটি তুলে প্রতিরক্ষা বাঁধকে দুর্বল করে এবং পাইপের সাহায্যে বালু দিয়ে জলাশয়সহ আশপাশের নিচু এলাকা ভরাটের কাজ চলছে সেখানে।
সরেজমিনে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, বালুমহালের অজুহাতে শহরতলির ডুমুরিয়া, চানপুর ও শুভপুর এলাকায় গোমতী বাঁধের মাটির ওপর পাইপ স্থাপন করে জলাশয় ভরাটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মাটি ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে সদর উপজেলার বদরপুর এলাকায় ফসলি জমি ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে। ওই এলাকায় ভারী ট্রাকে মাটি বহনের ফলে কুমিল্লা স্থলবন্দরগামী এ সড়কটিরও ক্ষতি হচ্ছে।
এর আগে বাঁধের নিচ দিয়ে গর্ত করে পাইপ নেওয়ার সময় গোমতী বাঁধের সদর উপজেলার কয়েকটি স্থান থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) র‌্যাব-পুলিশের সহায়তায় সেগুলো জব্দ করে। এরপর কার্যক্রম কিছু দিন বন্ধ রাখলেও সম্প্রতি মাটি ব্যবসায়ীরা বাঁধের ওপর দিয়েই মাটি কেটে পাইপ বসিয়েছেন। যদিও জেলা প্রশাসনের নির্দেশে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর এসব স্থানে পরিবেশ আইন অনুযায়ী জলাশয় ভরাট না করার আইন সংবলিত সাইনবোর্ড টানিয়ে দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অবৈধভাবে পাইপ স্থাপন ও মাটি ভরাটের কার্যক্রমে জড়িত সরকারি দলেরই একটি স্থানীয় সিন্ডিকেট। স্থানীয় হাসান রাফি, হাফিজুল ইসলাম, মাহবুব আলম ও আমির হোসেনের নেতৃত্বে আরও ১০-১২ জন সদস্য ওই সিন্ডিকেটের সদস্য। তারা শহরতলির শুভপুর এলাকায় পৃথক দুটি স্থানে গোমতী নদীর বাঁধের ওপর পাইপ বসিয়ে জলাশয় ভরাটের কাজ শেষ করেছেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে পাউবো কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে গোমতী বাঁধের নিচ দিয়ে স্থাপন করা পাইপ অপসারণ করলেও এক সপ্তাহ না যেতেই মাটি ব্যবসায়ীরা সেখানকার বাঁধের ওপর দিয়ে পাইপ স্থাপন করেছেন। এতে সড়কে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সে কারণে মাটি ব্যবসায়ীরাই অবৈধভাবে পাইপ স্থাপন করা স্থানগুলোতে লাল পতাকা টানিয়ে কাজ করছেন।
এদিকে এ এলাকার ভাবনা দীঘিসহ আশপাশের জলাশয় ভরাট করা হলে ডুমুরিয়া, চানপুর, শুভপুর এলাকাসহ গোটা এলাকা পানিতে ডুবে যাবে। তাই স্থানীয়রা দ্রুত জলাশয় ও দীঘি ভরাটের জন্য বসানো পাইপ অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। তবে অনেক চেষ্টা করেও পাইপ স্থাপনকারী সিন্ডিকেটের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক শওকত আরা কলি জানান, ১৯৯৫ সালের পরিবেশ আইন অনুসারে অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া কেউ জলাশয় ভরাট করতে পারবে না- এই এলাকায় ইতোমধ্যে এমন নির্দেশনা সংবলিত গণবিজ্ঞপ্তি সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। কেউ সরকারি আইন লঙ্ঘন করলে নিশ্চয়ই আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।