'স্বাধীনতা চত্বর' উদ্বোধন, পাবনায় উৎসবের আমেজ

প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২০   

পাবনা অফিস

পাবনার বীর মুক্তিযোদ্ধার রফিকুল ইসলাম বকুল স্মরণে 'স্বাধীনতা চত্বর' উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।

এই স্বাধীনতা চত্বরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পাবনায় দিনভর ছিল উৎসবের আমেজ। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল মানুষের মনে।

আধুনিকায়নের পর এটি হলো উত্তরবঙ্গ তথা দেশের অন্যতম স্বাধীনতা চত্ত্বর, যেখানে প্রতিটি ইট পাথরের ডিজাউনে মহান মুক্তিযুদ্ধ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩২টি উক্তিসহ ৭ মার্চের ভাষণ, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস বিদ্যমান।

স্বাধীনতা চত্ত্বরের প্রধান মঞ্চের দৈর্ঘ্য ৪৬ ফুট, প্রস্ত ৪০ ফুট এবং উচ্চতা ২০ ফুট। এর দুই পাশে দু'টি গ্রীণ রুম এবং ওয়াশরুম রয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট ও প্রস্ত ২৪ ফুট। মাঠের দৈর্ঘ্য ১১৮ ফুট ও প্রস্ত ১১৭ ফুট। যার তিন দিকে দুই স্তরের বসার গ্যালারি রয়েছে। মাঠের উত্তরপূর্ব পাশে প্রবেশের প্রধান ফটক ও দক্ষিণ ও পূর্ব পাশে ছোট একটি গেট রয়েছে। এ ছাড়া সর্বোপরি পুরো মাঠে রয়েছে দৃষ্টি নন্দন সবুজ ঘাস।

রোববার স্বাধীনতা চত্বর উদ্বোধন উপলক্ষে 'স্বাধীনতা চত্বর’ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বাধীনতা চত্ত্বর বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক, স্কয়ার গ্রুপের পরিচালক বীরমুক্তিযোদ্ধা অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু। এ সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু এমপি, আহমেদ ফিরোজ কবির এমপি, আলহাজ মকবুল হোসেন এমপি, নুরুজজামান বিশ্বাস এমপি, পাবনা জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লাল, সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপি, পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ, পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম, প্রয়াত রফিকুল ইসলাম বকুলের স্ত্রী নাসিমা ইসলাম, মেয়ে রাফিকা ইসলাম, ছেলে নুর ইসলামসহ পাবনা পৌরসভার সকল কাউন্সিলর ও শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল পাবনা জেলা ছাত্রলীগ, যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলা মুক্তিবাহিনী এবং মুজিব বাহিনীর পাবনা অঞ্চলের প্রধান ছিলেন তিনি। তিনি পাবনা টাউন হল মাঠে পাকিস্তানি পতাকা ছিঁড়ে ফেলে দিয়ে বাংলাদেশের পতাকা উড়ান।

পরবর্তীতে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের এমপি হন রফিকুল ইসলাম। দলীয় কোন্দলের কারণে তিনি ১৯৯৩ সালে বিএনপিতে যোগ দেন এবং পাবনা জেলা বিএনপির সভাপতি এবং ১৯৯৬ সালে এমপি নির্বাচিন হন। ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর পাবনা ঢাকা মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের কোনাবাড়ীতে এক সড়ক দুঘটনায় তিনি মারা যান।

বিষয় : পাবনা