নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের কুশারবাড়ি গ্রামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলায় জামিনে বেরিয়ে এসেই বাদীপক্ষের ওপর চড়াও হয়েছেন আসামিরা। মামলার আসামি মাসুদ রানা ও তার লোকজন মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়ে বাদী আব্দুস ছালামের বাড়ির সামনের রাস্তার দু'পাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে দু'দিন ধরে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এতে আব্দুস ছালামের পরিবার বাড়ির বাইরে যেতে পারছে না। বাজারে যেতে না পারায় কোনোমতে এক বেলা খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন তারা।

অভিযোগে জানা যায়, ওই গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার মফের আলীর ছেলে সোহেল রানা একই গ্রামের দিনমজুর আব্দুস সালামের স্ত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে তাকে রাজি করাতে না পেরে দুই মাস আগে আব্দুস সালামের বাড়িতে মাদক আছে সন্দেহে তাকে ও তার স্ত্রীকে মারধর করেন সোহেল রানা। ওই ঘটনায় বদলগাছী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে সোহেল রানাসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন আব্দুস ছালাম। মামলায় সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। ১২ দিন হাজতবাস করে জামিনে বেরিয়ে আসেন সোহেল রানা। এরপর মামলা তুলে নিতে তারা নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। শনিবার সকালে হঠাৎ করে সোহেল রানা ও তার বাহিনী আব্দুস সালামের বাড়ির দুই পাশের রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে ওই পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। এর পর থেকে আব্দুস সালামের সাত সদস্যের পরিবার অবরুদ্ধ রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে সোহেল রানা বলেন, মামলা তুলে নিতে কাউকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়নি। কাউকে অবরুদ্ধও করা হয়নি। আমাদের পারিবারিক কবরস্থান রক্ষায় বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মো. আয়েন উদ্দীন বলেন, বাড়ির সামনে চলাচলের পথে বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা ঠিক হয়নি। দু'পক্ষ এলে একটি ফয়সালার ব্যবস্থা করা হবে।

বদলগাছী থানার ওসি চৌধুরী জোবায়ের আহাম্মদ বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।