চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সরকারি কোর্টারে নিয়ে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ সোমবার শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন।

অভিযুক্ত রিজভি সরদার (২৬) শরীয়তপুর সদর উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মাহমুদপুর গ্রামের মৃত তেলাম সরদারের ছেলে।

ওই গৃহবধূ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রিজভি সরদারের ছোট ভাইয়ের সঙ্গে শরীয়তপুর সদরে অবস্থিত বিএম আইডিয়াল কলেজে লেখাপড়া করতেন ওই গৃহবধূ। সেই সুবাদে রিজভির সঙ্গে পরিচয় হয় ওই গৃহবধূর। প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না থাকায় এবং তার বাবা, ভাই না থাকায় সংসার চালাতে চাকরি করবেন বলে রিজভির সঙ্গে আলোচনা করেন ওই গৃহবধূ। বেশ কিছুদিন ধরে রিজভি এনজিওতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ঘোরাতে থাকেন ওই গৃহবধূকে। পরে রোববার চাকরির সাক্ষাৎকার দেওয়ার কথা বলে তাকে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান রিজভী। ওই হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা সোহাগের সরকারি কোয়াটারে নিয়ে হাত ও মুখ বেঁধে গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন রিজভি। এসময় গৃহবধূ চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এসে দু'জনকে আটক করে। পরে ওই হাসপাতালে কর্মরত ওয়ার্ডবয় রিজভির চাচা আমির হোসেন সরদার তাদের ছাড়িয়ে নেন।

ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ বলেন, এনজিওতে চাকরির সাক্ষাৎকার দেওয়ার কথা বলে আমাকে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান রিজভি। সেখানে একটি কক্ষে (সোহগের কোয়াটার) নিয়ে আমার হাত ও মুখ বেঁধে ধর্ষণ করেন রিজভি। আমি সব হারিয়েছি। তাই সঠিক বিচার পেতে রিজভির বিরুদ্ধে মামলা করেছি।

অভিযুক্ত রিজভির চাচা ও গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ড বয় আমির হোসেন সরদার বলেন, আমার ভাতিজা এমন ঘটনা ঘটাতে পারে আমার জানা নেই। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী মৃধা নজরুল কবির বলেন, ওই গৃহবধূকে এনজিওর চাকরি দেবে বলে নির্জন একটি কক্ষে নিয়ে হাত ও মুখ বেঁধে ধর্ষণ করেছেন রিজভী। বিষয়টি আমরা ট্রাইব্যুনালকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। ট্রাইব্যুনাল মামলাটি এফআইআর হিসেবে গণ্য করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশে দিয়েছেন। এছাড়া মেয়েটির মেডিকেল পরীক্ষা যেন হয়, সেজন্য আবেদন করা হয়েছে। আমি আশাবাদী আমরা ন্যায় বিচার পাব। অপরাধীর বিচার হবে।

গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা (ওসি) মোল্লা সোহেব আলী বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য আমাদের কাছে আসেনি।